রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে হঠাৎ বেড়েছে হামের প্রাদুর্ভাব। চলতি মার্চ মাসে শুধু ঢাকার সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে ১৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা জনমনে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
চিকিৎসকদের মতে, সময়মতো টিকা না নেওয়া, টিকার সংকট এবং সরকারি বুস্টার ডোজ বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে।
পটুয়াখালী থেকে বরিশাল হয়ে ঢাকায় এসেছেন কুলসুম, তাঁর ১০ মাস বয়সী শিশু ইনারাকে নিয়ে। সন্তানের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের পর হাসপাতাল ঘুরছেন তিনি। তাঁর মতো আরও অনেক অভিভাবক সন্তানদের নিয়ে ছুটছেন চিকিৎসার আশায়।
কুলসুম বলেন, ‘এখানে আসার পর ওষুধ দিয়েছে, ইনজেকশন দিয়েছে। ডাক্তার বলেছেন সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত এখানেই ভর্তি থাকতে হবে।’
হাসপাতাল সূত্র জানায়, রোববার দুপুর পর্যন্ত সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে ১২০ জনের বেশি হাম রোগী ভর্তি হয়েছে। রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা।
হাসপাতালের শিশুস্বাস্থ্যবিষয়ক কনসালট্যান্ট ডা. এ আর এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘অনেক মা-বাবা টিকা দিতে চান না। প্রতি পাঁচ বছর পরপর ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুদের বুস্টার ডোজ দেওয়ার কথা থাকলেও এবার তা দেওয়া হয়নি। সর্বশেষ এটি দেওয়া হয়েছিল ২০২০ সালে।’
অন্যদিকে, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল জানিয়েছেন, হামের সংক্রমণ মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ প্রস্তুত রয়েছে। নতুন করে টিকা কিনতে ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ঢাকার ডিএনসিসি হাসপাতালের সব ওয়ার্ড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সেখানে ভেন্টিলেটরসহ আইসিইউ সুবিধাও রয়েছে। সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালেও একই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।’
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, হামের লক্ষণ দেখা মাত্র দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে এবং শিশুদের সময়মতো টিকা নিশ্চিত করতে হবে।
এনএনবাংলা/


আরও পড়ুন
২০০৯ সালের পর জন্মগ্রহণকারীদের ধূমপান নিষিদ্ধ, আইন করছে যুক্তরাজ্য
তিন বছরে ৪০০ পোশাক কারখানা বন্ধ, আরও বহু ঝুঁকিতে: বিজিএমইএ
মাথাপিছু আয়ে ভারতকে ছাড়িয়ে যেতে পারে বাংলাদেশ: আইএমএফ