Skip to content

মৌলভীবাজারে ১৩ ডাকাতের যাবজ্জীবন

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় ২১ বছর আগে সংঘটিত হওয়া এক ডাকাতির মামলায় ১৩ আসামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দন্ডবিধির ৩৯৫ ধারায় তাদের যাবজ্জীবন সাজা প্রদান করেছেন আদালত। একই সাথে প্রত্যেক আসামীকে আরো ২৫ হাজার টাকা করে অর্থদন্ড এবং অনাদায়ে ১ বছর করে সাজা প্রদানের আদেশ দেয়া হয়েছে। ৫ মে মঙ্গলবার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ তৃতীয় আদালতের বিজ্ঞ বিচারক শামসাদ বেগম এই রায় ঘোষনা করেন। রায় ঘোষনার সময় ৩ জন আসামী উপস্থিত থাকায় তাদেরকে সাজা পরোয়ানায় জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে এবং বাকি ১০ জন আসামী পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারীর আদেশ হয়েছে। বিষয়টি দায়িত্বরত মৌলভীবাজার জজ কোর্টের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর এডভোকেট নিয়ামুল হক গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।  সাজাপ্রাপ্ত আসামীরা হলেন, কুলাউড়া উপজেলার কর্মধার ভাতাইয়া গ্রামের মিলন মিয়া, রাহেল, পৃথিমপাশা ইউনিয়নের ঘড়গাঁও গ্রামের দুলাল মিয়া, সেলিম, জুনাব আলী, গনিপুর গ্রামের শাহেদ, দক্ষিণ রাউৎগাঁও গ্রামের সাতির ওরফে সাকিল, নাছিরাবাদ গ্রামের কামাল, বড়লেখা উপজেলার উত্তর বহ্নির মকরম, নকুল ওরফে সুমন, বড়তল গুচ্ছগ্রামের খোকন, সুজানগর গ্রামের জাকারিয়া, গৌড়নগর গ্রামের জামাল।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের কর্মধা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস শহীদের ছেলে মারুফ আহমদের বসত ঘরে ২০০৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ডাকাতি ও ধর্ষন সংঘটিত হয়। ওই ঘটনায় ২ মার্চ মারুফ আহমদ বাদী হয়ে কুলাউড়া থানায় ১৪ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। ১৪ জনের মধ্যে মামলার ১৩ নম্বর আসামি বড়লেখা উপজেলার কলাজুরা গ্রামের বাসিন্দা মুকুল হক মৃত্যুবরণ করেন।

এ বিষয়ে মৌলভীবাজার জজ কোর্টের আইনজীবি নিয়ামুল হক বলেন, দীর্ঘ প্রায় ২১ বছর পর বিচারামলে মামলার রায় ঘোষনা করা হয়। তবে ধর্ষণ সংক্রান্ত অভিযোগের জন্য আলাদা চার্জশীটের প্রেক্ষিতে নারী ও শিশু আদালতে আলাদা মামলা চলমান আছে। তিনি আরো বলেন, এই রায় অবশ্যই একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে কাজ করবে। ডাকাতি একটি ভয়াবহ ঘটনা যা সমাজ, পরিবার, শারীরিক, মানসিকভাবে প্রভাব ফেলে। দৃষ্টান্তমূলক সাজা প্রদান সমাজ থেকে অপরাধ নির্মূলে কাজ করতে অবশ্যই গুরুত্ব বহন করে।