ভাঙ্গুড়ায় ঘুষের টাকা ফেরত চেয়ে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে চাকরি প্রার্থীদের বিক্ষোভ
ভাঙ্গুড়া (পাবনা)প্রতিনিধি
পাবনার ভাঙ্গুড়ায় খানমরিচ টেকনিক্যাল এন্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের অধ্যক্ষ মোফাজ্জল হোসেন সাগরের বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার নামে ২১ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া মোটা অঙ্কের টাকা ঘুষ নিয়ে নিজের পছন্দের লোককে চাকরি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
আজ সোমবার (৪ মে) দুপুরে ঘুষের ২১ লাখ টাকা ফেরত চেয়ে ওই অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে ভুক্তভোগী চাকরিপ্রার্থীরা ও স্থানীয় জনসাধারন।
বিক্ষোভ শেষে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে চাকরি প্রার্থীরা বলেন, চাকরি দেওয়ার নামে ওই অধ্যক্ষ তাদের কাছ থেকে ২১ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন। অথচ তাদের চাকরি না দিয়ে নিজের আত্মীয়-স্বজন ও পছন্দের লোকদের তিনি চাকরি দিয়েছেন। এখন হয় তিনি তাদের চাকরি দেবেন,না হয় টাকা ফেরত দিতে হবে।
জানা যায়, ২০০০ সালে উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়নের চন্ডিপুর বাজারে খানমরিচ টেকনিক্যাল এন্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজটি স্থাপিত হয় । সে সময় পার্শ্ববর্তী সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া উপজেলার তেলিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মোফাজ্জল হোসেন সাগর অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পান। ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠানটির উচ্চ মাধ্যমিক শাখা এমপিওভুক্ত হয়। পরবর্তীতে ২০১৯ সালে স্কুল শাখা এমপিওভুক্ত হয়।
অভিযোগে জানা যায়, প্রায় এক মাস আগে কলেজটিতে নৈশ্য প্রহরী পদে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন অধ্যক্ষ। এতে চারজন চাকরি প্রার্থী আবেদন করেন। গত ১ মে ছুটির দিনে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। নিয়োগ পরীক্ষার আগে অধ্যক্ষ মোফাজ্জল হোসেন চাকরি দেয়ার কথা বলে খানমরিচ গ্রামের বাসিন্দা লিমন নামে এক চাকরি প্রার্থীর কাছ থেকে ৭ লাখ টাকা ও হেলাল উদ্দিন নামে এক চাকরি প্রার্থীর কাছ থেকে ২ লাখ টাকা ঘুষ নেন। তবে নিয়োগের আগের রাতে অধ্যক্ষের নিজ এলাকার এনামুল হকের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে তাকে নিয়োগ দেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া ওই অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ২০১০ সালে অফিস সহকারী পদে নুরুজ্জামান নামে একজনের কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা এবং ২০০২ সালে কম্পিউটার অপারেটর পদে তোফায়েল আহমেদ নামে একজনের কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে চাকরি না দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
এছাড়া কলেজের জন্য দুই বিঘা জমি দাতার পরিবার থেকে একজনকে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর চাকরি দেওয়ার কথা থাকলেও অধ্যক্ষ সে কথা রাখেননি। বরং মোটা টাকার বিনিময়ে অন্য একজনকে চাকরি দেওয়া হয়েছে বলে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে অধ্যক্ষ মোফাজ্জল হোসেন সাগর বলেন, গ্রামবাসি ষড়যন্ত্র করে তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তুলছে। তিনি কারো কাছ থেকে ঘুষ নেননি বলে দাবি করেন। স্বচ্ছ নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো.আরিফুজ্জামান বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।।
