Skip to content

এশিয়ার শেয়ারবাজারে উত্থান, ইরান–যুক্তরাষ্ট্র শান্তিচুক্তির আশা

প্রতীকী ছবি

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করেছে। এর প্রভাবে এশিয়ার শেয়ার বাজারগুলোতে ইতিবাচক ধারা ফিরে এসেছে এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশাবাদ ও উৎসাহ বেড়েছে। একই সঙ্গে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে পরিচিত মার্কিন ডলারের মান কিছুটা কমে গেছে এবং বিশ্ববাজারে তেলের দামেও উল্লেখযোগ্য পতন দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিনের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা থেকে স্থিতিশীলতার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বিশ্বজুড়ে ঝুঁকি গ্রহণের মানসিকতা শক্তিশালী হয়েছে।

জাপানের প্রধান শেয়ার সূচক নিক্কেই দীর্ঘ ছুটির পর লেনদেনে ফিরে ইতিহাস গড়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের শক্তিশালী পারফরম্যান্সের ওপর ভর করে সূচকটি প্রথমবারের মতো ৬২,০০০ পয়েন্ট অতিক্রম করেছে। বিশেষ করে প্রযুক্তি খাতের কোম্পানিগুলোর শক্তিশালী আয়ের প্রতিবেদনের কারণে জাপানি শেয়ারবাজারে বড় ধরনের উত্থান ঘটে। শুধু জাপান নয়, দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ানের শেয়ার বাজারেও একই ধরনের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সঙ্গে একটি কার্যকর শান্তিচুক্তি সম্পন্ন হলে তা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য বড় মাইলফলক হতে পারে। ক্যাপিটাল ডট কমের সিনিয়র ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালিস্ট কাইল রোডা জানান, বর্তমান বাজার প্রতিক্রিয়া যৌক্তিক হলেও শান্তি প্রক্রিয়া অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় পরিস্থিতি যেকোনো সময় পরিবর্তিত হতে পারে। ইরান বর্তমানে একটি শান্তি প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে, যা যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির পথ তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তেলের বাজারেও এই সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির প্রভাব স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। বুধবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রায় ৮ শতাংশ কমে যায়। যদিও বৃহস্পতিবার ব্রেন্ট ক্রুড কিছুটা বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০২.১১ ডলারে লেনদেন হচ্ছে, তবুও এটি সাম্প্রতিক সময়ের তুলনায় কম। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, বর্তমান দাম এখনো যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি, যা বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।

হরমুজ প্রণালী নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত মার্কিন অবস্থান এখনো পুরোপুরি সমাধান না হওয়ায় বাজারে স্থায়ী স্বাভাবিকতা নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে। এটিএফএক্স গ্লোবালের প্রধান বাজার কৌশলবিদ নিক টুইডেল মনে করেন, চুক্তি বাস্তবায়ন এবং সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে কত সময় লাগবে তা নিয়ে বাজার এখনো অনিশ্চয়তায় রয়েছে। ফলে তেলের দামে ওঠানামা অব্যাহত থাকতে পারে। তবে শক্তিশালী করপোরেট আয়, বিশেষ করে সেমিকন্ডাক্টর খাতের ভালো পারফরম্যান্স বাজারকে কিছুটা স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করছে।

বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইউরো ও ব্রিটিশ পাউন্ড আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। ছয়টি প্রধান মুদ্রার বিপরীতে ডলারের সূচক বর্তমানে ৯৮.০৩২ পয়েন্টে নেমে এসেছে। অন্যদিকে জাপানি ইয়েনের অস্থিরতা এখনো বাজারের নজরে রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েনের বড় ধরনের ওঠানামা দেখা যাওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে, টোকিও সরকার বাজারে হস্তক্ষেপ করেছে।

জাপানের শীর্ষ মুদ্রা কূটনীতিক আৎসুশি মিমুরা জানিয়েছেন, ইয়েনের বিনিময় হার নিয়ন্ত্রণে সরকার প্রয়োজনে যেকোনো সময় হস্তক্ষেপ করতে প্রস্তুত এবং এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। আগামী সপ্তাহে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টের টোকিও সফরের কথা রয়েছে, যেখানে ইয়েনের অস্থিরতা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। ওসিবিসি বিশ্লেষকদের মতে, শুধুমাত্র হস্তক্ষেপের মাধ্যমে ইয়েনকে স্থিতিশীল রাখা কঠিন হবে যদি না ব্যাংক অব জাপান তাদের সুদের নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনে।সূত্র: রয়টার্স

এনএনবাংলা/পিএইচ