নড়াইলে ১১শ’ কেজির বাহুবলীর দাম হাকছে ১০ লাখ
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নড়াইল কালিয়া উপজেলার খড়রিয়া গ্রমের রাহুল রিয়া অ্যাগ্রো ফার্মে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে বিশালদেহী একটি ষাঁড়। নাম রাখা হয়েছে ‘বাহুবলী’। ষাঁড়টির দৈর্ঘ্য ১৪ ফুট ও উচ্চতা ৬ ফুট, ওজন প্রায় ১১শ’ কেজি ( সাড়ে ২৮ মণ)। সাদা কালো রঙের ষাঁড়টি জেলার সবচেয়ে বড় ষাঁড় বলে দাবী খামার মালিকের। ফ্রিজিয়ান শাহীওয়াল জাতের ষাঁড়টি সুস্থ—সবল ও শান্ত স্বভাবের জন্য আলাদাভাবে নজর কাড়ছে সবার।
প্রায় আড়াই বছর আগে কুষ্টিয়া আলমডাঙ্গা থেকে ২শ’ কেজি ওজনের ষাঁড়টি কিনেছিলেন রাহুল—রিয়া অ্যাগ্রো ফার্মের মালিক রিপণ মিনা। তখনই স্থির করেছিলেন, ষাঁড়টিকে বড় করে বিক্রির জন্য বাজারে তুলবেন। যত্ন আর পুষ্টিকর খাদ্যে আস্তে আস্তে বেড়ে উঠেছে ষাঁড়টির শারীরিক গঠন। ষাঁড়টিকে ভালবেসে তাই নাম রেখেছেন ‘বাহুবলী’। বাহুবলীর বয়স এখন প্রায় চার বছর। দু’টি দাঁত (ভেঙেছে) আর ওজন প্রায় ১ হাজার ১শ’ কেজি।
রিপন মিনা জানান, প্রায় ২ বছর যাবৎ ষাঁড়টিকে আমার সন্তানের মত যত্ন করে লালন—পালন করেছি। কোনো ধরনের কৃত্রিমতা ছাড়াই প্রাকৃতিক উপায়ে ঘাস, খৈল, ভুট্টার গুঁড়া ও চিটাগুড় খাইয়ে মোটাতাজাকরণের মাধ্যমে ধীরে ধীরে ষাঁড়টিকে বড় করেছেন। কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা করলে এবং অতিরিক্ত খাবার দিলে ষাঁড়টির ওজন আরও অনেক বেশি হতো। তাতে শরীরে চর্বি বেড়ে যেত এবং ষাঁড়টি ঝিমিয়ে পড়ত। কিন্তু, পরিমিত প্রাকৃতিক খাবার দেওয়ার কারণেই বাহুবলী সুঠাম দেহের অধিকারী হয়েছে। কুরবানি ঈদকে সামনে রেখে এ বছর ষাঁড়টি বিক্রির জন্য বিভিন্ন হাট—বাজারে নেওয়া হয়েছে। এখন আর হাটে নিয়ে গিয়ে ষাঁড়টিকে কষ্ট দিতে চাই না। খামার থেকেই বিক্রি করতে চাই। আমি খুব বেশি লাভের কথা ভাবছি না। সুলভ মূল্য হিসেবেই ষাঁড়টির দাম ১০(দশ) লাখ টাকা চাচ্ছি। শান্ত মেজাজে থাকা ষাঁড়টি (বাহুবলী) ঘর থেকে বের করতেই অশান্ত হয়ে পড়ে। ৪ জন মিলে রশি দিয়ে বেঁধে ঘর থেকে বের করতে হয়। এ ছাড়া তাঁর খামারে আরও ২২ টি ষাঁড় এ বছর কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। সেগুলো মাঝারি আকারের।বাহুবলীকে দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা পারুল নামে এক শ্রমিক বলেন, বাহুবলীকে নিয়ম মেনে তিন বেলা খেতে দিতে হয়। খড়, কাঁচাঘাস, ভুট্টা, চিড়াগুড়, খৈলসহ দেশীয় খাবার খাওয়ানো হয়। নিয়মিত শ্যাম্পু দিয়ে গোছল করানো হয়।খামারের সবচেয়ে বড় গরু বাহুবলী। বিশাল দেহের অধিকারী হলেও ষাঁড়টি খুবই শান্ত প্রকৃতির। তবে কোনো কারণে রেগে গেলে ষাঁড়টিকে সামলাতে বেগ পেতে হয়। তাকে যখন বের করা হয়, তখন তাকে দেখতে স্থানীয়দের ভিড় জমে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রাশেদুল হক বলেন, এ বছর কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে মোট ৪৫ হাজার ৪৯৭ টি গবাদি পশু মোটাতাজা করা হয়েছে। তার মধ্যে ষাঁড় ১৪ হাজার ৮৭৪ টি, বলদ ৬৩৯ টি, গাভী ৫ হাজার ১৪১ টি, ছগল ২৪ হাজার ৭৮৮ এবং ভেড়া ৫৫ টি। জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ৩৯ হাজার ৭৩৩ টি। চাহিদার তুলনায় উদ্বৃত্ত থাকছে ৫ হাজার ৭৬৪ টি পশু। যা জেলার চাহিদা পূরণ করে অন্য জেলায় বিক্রি করা হবে। জেলায় ৬ টি পশুর হাটে ভেটেনারি টিম দায়িত্ব পালন করছে। তাঁরা পরীক্ষা—নিরীক্ষার মাধ্যম ভোক্তাদের কাছে সুস্থ গরু বিক্রয়ের নিশ্চয়তায় কাজ করছে। জেলায় অনেক খামারি কোরবানি উপলক্ষে গরু মোটাতাজা করছেন। তারা বিভিন্ন ভাবে প্রাকৃতিক খাবারের মাধ্যমে পশুগুলোকে বড় করে তুলছেন। কালিয়া উপজেলার খড়রিয়াতে রিপণ মিনা যে গরুটিকে মোটাতাজা করেছেন সেটি জেলার সবচেয়ে বড় গরু বলে মনে হয়। বাড়ির মালিকের দাবি গরুটি ২৮ মনের কাছাকাছি । আমার প্রত্যাশা, খামারি প্রকৃত মূল্যটা পাবেন, যাতে করে তিনি গরু পালনে আরো উৎসাহিত হন এবং তাঁর দেখাদেখি এলাকায় আরো খমারি গরু মোটাতাজাকরণে আগ্রহী হবেন।
