Skip to content

রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধ করতে গিয়ে ‘মাইন বিস্ফোরণে’ নিহত কিশোরগঞ্জের যুবক

রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধ করতে গিয়ে মাইন বিস্ফোরণে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার এক যুবক নিহত হয়েছেন।

করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমরানুল কবির জানান, শুক্রবার বিকেলে রাশিয়া থেকে নিহতের এক বন্ধু ভিডিও বার্তার মাধ্যমে পরিবারের কাছে মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন।

নিহত মো. জাহাঙ্গীর হোসাইন (উপজেলার জয়কা ইউনিয়নের কান্দাইল-বাগপাড়া গ্রামের প্রয়াত হাবিবুর রহমানের ছেলে) রাশিয়া-ইউক্রেন সীমান্তের রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত এলাকায় মাইন বিস্ফোরণে প্রাণ হারান। একই ঘটনায় তিন বাংলাদেশি নিহত হন বলে জানা গেছে।

নিহতের ছোট ভাই জাভেদ বলেন, “ভাইয়ের বন্ধু মৃদুল ভিডিও বার্তার মাধ্যমে মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। মৃদুল বর্তমানে রাশিয়ার একটি সেনা ক্যাম্পে কর্মরত। তার বাড়ি টাঙ্গাইল জেলায়।”

তিনি আরও জানান, একই ঘটনায় আরও দুই বাংলাদেশি নিহত ও একজন আহত হয়েছেন বলে মৃদুল জানিয়েছেন। নিহত অপর দুজন হলেন মাদারীপুরের মো. সুরুজ কাজী এবং কুমিল্লার মো. ইউসুফ খান।

ভিডিও বার্তায় মৃদুল দাবি করেন, ‘আরাফা আল মনোয়ার এজেন্সি’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাদের রাশিয়ায় পাঠায়। পরে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় তাদের রাশিয়ান সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং সেখান থেকে যুদ্ধে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় ওই এজেন্সিকে দায়ী করেছেন তিনি।

এদিকে জাহাঙ্গীরের মৃত্যুর খবর পেয়ে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। মা জাকিয়া বেগম ছেলের শোকে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। জ্ঞান ফিরলেই সন্তানের নাম ধরে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন তিনি। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমি আর কিছু চাই না। টাকা-পয়সা লাগবে না, আমার ছেলেটাকে শুধু ফেরত চাই।”

আড়াই বছরের সন্তানকে কোলে নিয়ে জাহাঙ্গীরের স্ত্রী মাশুকা হোসাইন বলেন, “ভালো চাকরির আশায় সংসারের স্বপ্ন নিয়ে সে রাশিয়া গিয়েছিল। কিন্তু তাকে যুদ্ধে পাঠানো হলো। এই যুদ্ধে শুধু সে না, আমরাও শেষ হয়ে গেলাম।”

শ্বশুর রফিকুল ইসলাম জানান, রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার বিষয়টি তারা পরে জানতে পারেন। তিনি জাহাঙ্গীরকে দেশে ফিরে আসার জন্য বলেছিলেন, কিন্তু তা আর সম্ভব হয়নি।

তিনি আরও বলেন, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে পরিবারের সঙ্গে জাহাঙ্গীরের শেষ কথা হয়। তখন তিনি জানান, কিছুদিন নেটওয়ার্কের বাইরে থাকবেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, জাহাঙ্গীরের বাবা রাজমিস্ত্রি এবং মা পোশাক কারখানার শ্রমিক ছিলেন। করোনাকালে পরিবারটি ঢাকায় বসবাস ছেড়ে গ্রামে ফিরে আসে। এসএসসি পাসের পর তিনি একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করেন।

পরবর্তীতে স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকায় থাকলেও আর্থিক সংকটে আবারও গ্রামে ফিরে যান। চার মাস আগে উন্নত জীবনের আশায় শ্বশুরবাড়ির সহায়তায় রাশিয়ায় পাড়ি জমান জাহাঙ্গীর।

ওসি এমরানুল কবির বলেন, “আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি, তবে পরিবারের মাধ্যমে আমরা মৃত্যুর বিষয়টি জেনেছি। তিনি রাশিয়া-ইউক্রেন সীমান্ত এলাকায় মাইন বিস্ফোরণে নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।”

উল্লেখ্য, এর আগে ২ মে রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত ইউক্রেন সীমান্ত এলাকায় ড্রোন হামলায় করিমগঞ্জ উপজেলার জাফরাবাদ ইউনিয়নের মাঝিরকোনা গ্রামের বাসিন্দা রিয়াদ রশিদ (২৮) নিহত হন।

এনএনবাংলা/পিএইচ