Skip to content

Upcoming
Argentina
0-0
Egypt
Source: ESPN

চট্টগ্রামে ৩৩০ মিলিমিটার বৃষ্টি, নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা

টানা ভারী বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। আগ্রাবাদ, চকবাজার, বাকলিয়া, চান্দগাঁও, পতেঙ্গা, কুয়াইশসহ বিভিন্ন এলাকার সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে। অনেক এলাকায় বাসাবাড়ি ও দোকানেও পানি ঢুকে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বাসিন্দারা। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন অফিসগামী মানুষ।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। ভারী বৃষ্টির পর নিচু এলাকাগুলোতে দ্রুত পানি জমতে শুরু করে। কোথাও হাঁটুপানি, আবার কোথাও তারও বেশি পানি জমে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। এতে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

আগ্রাবাদ, চকবাজার, বাকলিয়া, কাজির হাট, হালিশহর, চান্দগাঁও, মুরাদপুর সুন্নিয়া মাদ্রাসা রোড, আকমল আলী রোড, পতেঙ্গা ও কুয়াইশ এলাকার বাসিন্দারা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন। এসব এলাকার বহু বাসাবাড়ি ও দোকানে পানি ঢুকে গৃহস্থালির জিনিসপত্র এবং ব্যবসায়িক মালামালের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। চকবাজারের বিভিন্ন অলিগলিও পানিতে ডুবে যাওয়ায় মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়েছে।

জলাবদ্ধতার কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন কর্মজীবী মানুষ। সকাল থেকেই নগরীর বিভিন্ন মোড়ে তীব্র যানজট দেখা দেয়। অনেককে প্যান্ট গুটিয়ে, জুতা হাতে নিয়ে পানির মধ্য দিয়ে হেঁটে কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে যেতে দেখা যায়। একই সঙ্গে গণপরিবহন ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংকট দেখা দেওয়ায় অনেকেই নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে পৌঁছাতে পারেননি।

চান্দগাঁও এলাকার বাসিন্দা পয়সাল বলেন, সকালে অফিসে বের হয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় আটকে থাকতে হয়েছে। প্রতিবছর বর্ষা এলেই একই ধরনের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

বাকলিয়ার বাসিন্দা নাসরিন আক্তার বলেন, সকালে বৃষ্টির পর বাসার নিচতলায় পানি ঢুকে পড়ে। আসবাবপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে রাখতে হয়েছে। এত প্রকল্প বাস্তবায়নের পরও জলাবদ্ধতার স্থায়ী কোনো সমাধান দেখা যাচ্ছে না।

আগ্রাবাদের ব্যবসায়ী অাবুল হোসেন বলেন, দোকানে পানি ঢুকে কিছু মালামাল নষ্ট হয়েছে। বৃষ্টি হলেই ব্যবসায় লোকসান গুনতে হয়।

আকমল আলী রোড এলাকার বাসিন্দা রাকিব বলেন, সকাল থেকে অলিগলিতে শুধু পানি আর পানি। অনেক বাসায় পানি ঢুকেছে এবং অনেক মানুষ ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন। এই ভোগান্তি কবে শেষ হবে, তা জানা নেই।

মুরাদপুর সুন্নিয়া মাদ্রাসা এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রহিম গণমাধ্যমকে বলেন, সকালের বৃষ্টিতে বাসার নিচতলায় পানি উঠে গেছে। ফলে এখন ঘরবন্দি হয়ে থাকতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, জলাবদ্ধতা নিরসনে হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও সামান্য ভারী বৃষ্টিতেই নগরীর বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। এতে শুধু মানুষের চলাচলই নয়, ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় চট্টগ্রাম অঞ্চলে আগামী কয়েকদিন আরও বৃষ্টিপাত হতে পারে। এতে নিচু এলাকাগুলোর জলাবদ্ধতা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নগরীর পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মাহমুদুল আলম জানান, গতকাল সকাল ৯টা থেকে আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত ৩৩০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী দুই থেকে তিনদিন চট্টগ্রামে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।

এনএনবাংলা/