Skip to content

Upcoming
Portugal
0-0
Spain
Source: ESPN

কুকুরের আক্রমণ থেকে বিপন্ন গন্ধগোকুল উদ্ধার

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলা থেকে প্রায় বিপন্ন প্রজাতির একটি গন্ধগোকুল (সিভেট) উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (৪ জুলাই) বিকেলে উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের রাজগুরু এলাকার কিরআতুল কুরআন কওমী মাদ্রাসার প্রাঙ্গণ থেকে স্থানীয় এক মাদ্রাসা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মানবিক উদ্যোগে প্রাণীটিকে উদ্ধার করে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকালে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে একটি গন্ধগোকুল কুকুরের আক্রমণের শিকার হয়। এ সময় মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিষয়টি দেখতে পেয়ে দ্রত এগিয়ে যান। প্রথমে প্রাণীটিকে তিনি চিনতে না পারলেও পরে বুঝতে পারেন এটি একটি গন্ধগোকুল। এরপর মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় কুকুরের কবল থেকে প্রাণীটিকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে রাখা হয়।

কুকুরের কামড়ে প্রাণীটির লেজে আঘাতের চিহ্ন ও ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে। উদ্ধারের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিরল এই বন্যপ্রাণীটিকে দেখতে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে। পরে বিষয়টি বাবুগঞ্জ উপজেলা বন বিভাগকে জানানো হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে প্রাণীটিকে নিজেদের হেফাজতে নেন।

উদ্ধারকারী হাফেজ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, ‘কুকুরের আক্রমণে প্রাণীটি গুরুতর আহত হয়েছিল। আমি ও মাদ্রাসার ছাত্ররা মিলে সেটিকে উদ্ধার করি। পরে বন বিভাগের কাছে হস্তাস্তর করেছি, যাতে চিকিৎসা শেষে আবার প্রাকৃতিক পরিবেশে ফিরিয়ে দেওয়া যায়।’

মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা জানান, আমরা দেখি একটি কুকুর প্রাণীটিকে আক্রমণ করছে। স্যার আমাদের ডাক দিলে আমরা সবাই মিলে কুকুরটিকে তাড়িয়ে গন্ধগোকুলটিকে উদ্ধার করি। পরে নিরাপদে রেখে বন বিভাগে খবর দেওয়া হয়। এমন একটি বিরল প্রাণীকে বাঁচাতে পেরে আমাদের খুব ভালো লাগছে।

বাবুগঞ্জ উপজেলা বন বিভাগের কর্মকর্তা মাসুম মোস্তফা কাওসার বলেন, ‘উদ্ধার হওয়া গন্ধগোকুলটিকে বরিশাল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে নিয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠলে প্রাণীটিকে তার প্রাকৃতিক আবাসস্থলে অবমুক্ত করা হবে। কোনো বন্যপ্রাণী আহত বা বিপদে পড়লে সেটিকে নিজের কাছে আটকে না রেখে বন বিভাগ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো উচিত। এতে প্রাণীটির জীবন রক্ষা করা সম্ভব হবে।’

জানা গেছে, গন্ধগোকুল বা সিভেট বাংলাদেশের প্রায় বিপন্ন একটি নিশাচর বন্যপ্রাণী। এটি সাধারণত রাতের বেলায় চলাচল করে এবং ফল, পোকামাকড়, ছোট সরীসৃপ ও ক্ষুদ্র প্রাণী খেয়ে জীবনধারণ করে। খাদ্যশৃঙ্খল রক্ষা, বীজ বিস্তার এবং বনজ পরিবেশের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে এ প্রাণীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই এ ধরনের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জনসচেতনতা এবং দ্রত উদ্ধার কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এনএনবাংলা/