সাম্প্রতিক
জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের দাবি নুরের, বললেন ‘সুযোগ দিলে ভয়ংকর বিপর্যয়’ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরের বিজ্ঞপ্তি দিয়েও প্রত্যাহার ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনের ডিম–মুরগির-সবজির দাম বাড়তি, বাজারে হাঁসফাঁস ক্রেতার ‘হিট আইল্যান্ডে’ পরিণত হচ্ছে ঢাকা, কী উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার ‘ক্রেজি পিল’ ইয়াবায় বিপর্যস্ত বাংলাদেশ, বাড়ছে আসক্তির ঝুঁকি রাষ্ট্রপতির শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শপথ নিলেন নতুন চার মন্ত্রী ও দুই প্রতিমন্ত্রী রাজধানীর সড়কে এআই ক্যামেরার ‘অদৃশ্য চোখ’, কোন অপরাধে কত জরিমানা হোটেল রুম নোংরা ও জরিমানার অভিযোগ, জেমসের দাবি—‘এটা কোনো বিষয়ই না’ আর্জেন্টিনার পারেদেস ১০ ম্যাচ নিষিদ্ধ, আরও যারা শাস্তি পেলেন
Skip to content

ধরলা নদীর স্রোতে ধ্বসে গেছে কালভার্ট, রাস্তা ভেঙে হয়েছে নালা

কুড়িগ্রামে ধরলার প্রবল স্রোতে ধসে গেছে কালভার্ট, জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তা ভেঙে হয়েছে নালা। যোগাযোগ বিছিন্ন হয়ে বিপাকে পড়েছে পাচ শতাধিক পরিবার। 

পাচ দিন আগে  প্রায় ৫০ ফুট সড়ক ভেঙে যোগাযোগ বিছিন্ন হলেও এখন পযন্ত নেয়া হয়নি কার্যকরী পদক্ষেপ। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ওই এলাকার পাচ শতাধিক পরিবার যাতায়াতের জন্য দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থার দাবীতে সোচ্চার হয়েছে।

জানা গেছে, গত ২৯ জুন সোমবার গভীর রাতে টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে ধরলা নদীর পানি বেড়ে তীব্র স্রোতের সৃষ্টি হয়। নদীর পানি লোকালয়ে ঢুকে  পড়ে। বন্যার পানির প্রবল স্রোতের কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি উপজেলার   নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের চর গোরকমন্ডল এলাকার ওই কালভার্টটি ধসে যায়। সেই  সঙ্গে কালভার্টের দুই পাশের প্রায় ৫০ ফুট রাস্তাও ভেঙে গি‌য়ে বিশাল নালার সৃষ্টি হয়।

ফুলবাড়ি উপজেলার আনন্দবাজার থেকে চর গোরকমন্ডল এলাকায় যাতায়াতের অন্যতম প্রধান সড়ক এটি। সড়ক ভেঙে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা বাধ্য হয়ে দীর্ঘ বিকল্প পথ ব্যবহার করছে। এতে সময়ের পাশাপাশি যাতায়াত ব্যয়ও বেড়েছে।

যোগাযোগ বিছিন্ন এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা মাইদুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসী চর গোরকমন্ডল এলাকায় ধরলা নদীর তীরে একটি স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট বিভাগ  কার্যকর কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলের তীব্র স্রোতে কালভার্ট ও সড়কটি ভেঙে যায়। এখন কোমরসমান পানি পেরিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

ওই  এলাকার  শাহিনা বেগম জানান, পাঁচ দিন ধরে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি পেরিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এলাকায় তিনটি আবাসনসহ পাঁচ শতাধিক পরিবারের বসবাস। তাই দ্রুত একটি সেতু নির্মাণ অথবা অন্তত বিকল্প চলাচলের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

স্থানীয় স্কুলশিক্ষার্থী অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া  নাঈম সরকার  জানান,  এটিই চর গোরকমন্ডল থেকে ফুলবাড়ি  উপজেলা সদরে  যাতায়াতের প্রধান সড়ক।  জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি বন্যার পানির স্রোতে   গত পাঁচ দিন আগে ভেঙে যায়। ছাত্রছাত্রী  ও এলাকাবাসী ঝুঁকি নিয়ে ভাঙা অংশ দিয়ে পানিতে ভিজে  পারাপার করছে।কিন্তু আজও  বিকল্প পথ এর ব্যবস্থা করা হয়নি।

নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হাছেন আলী বলেন, কালভার্ট  ধ্বসের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে বিকল্প চলাচলের ব্যবস্থা এবং স্থায়ীভাবে একটি সেতুসহ সড়ক পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো সিরাজুদ্দৌলা বলেন, ধরলার স্রোতে চর গোরকমন্ডল এলাকায় একটি কালভার্ট ধসে পড়ে প্রায় ৫০ ফিট সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। চলমান বন্যায়  সেখানে করার কিছু  নেই। উপর মহলে জানানো হয়েছে,  বরাদ্দ পাওয়া মাত্রই  বড় পরিসরে একটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ফুলবাড়ীছ্যএ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দিলারা আকতার বলেন, ওই এলাকায় একটি ছোট কালভার্ট ছিল। যা কয়েকদিন আগে পানির স্রোতে ভেঙে গেছে বলে জানতে পেরেছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উপজেলা প্রকৌশলী ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আপাতত এলাকাবাসীর যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।