



বরিশালে অগ্রণী হাউজিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুল আজিজ হাওলাদারকে মারধর করে অণ্ডকোষ চেপে ধরে জোরপূর্বক চেক ও সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি নগরীর সদর রোডে অবস্থিত অগ্রণী হাউজিংয়ের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ শনিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন ভুক্তভোগী আব্দুল আজিজ। ভিডিওটি প্রকাশের পর তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়ে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার তিনি এ ঘটনায় আদালতে একটি নালিশি মামলা দায়ের করেন।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, চারজন যুবক আব্দুল আজিজের কক্ষে প্রবেশ করেন। তাদের মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান লিটু নামে একজন তাকে মারধর করেন। একপর্যায়ে তার অণ্ডকোষ চেপে ধরে দুটি চেক ও একটি সাদা স্ট্যাম্পে জোর করে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। মারধরের সময় আজিজ ‘বাচ্চু-বাচ্চু’ বলে একজনকে ডাকতে থাকেন। পরে একজন ব্যক্তি কক্ষে প্রবেশের চেষ্টা করলে লিটুর সঙ্গে থাকা অন্যরা তাকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেন। স্বাক্ষর নেওয়ার পর চেক ও স্ট্যাম্প হস্তান্তরের দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করা হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান লিটুর বাড়ি অগ্রণী হাউজিংয়ের পাশের কাঠপট্টি সড়কে। তিনি যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে জানা গেছে। তার বড় ভাই মাহবুবুর রহমান পিন্টু মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি।
ভুক্তভোগী আব্দুল আজিজ হাওলাদার জানান, লিটু একসময় তাদের আবাসন ব্যবসার অংশীদার ছিলেন। পরবর্তীতে বিনিয়োগের বিপরীতে জমি হস্তান্তরের মাধ্যমে উভয়ের হিসাব চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করা হয় এবং কোনো পাওনা নেই—এ মর্মে অঙ্গীকারনামাও দেওয়া হয়েছিল। এরপরও লিটু তার কাছে এক কোটি টাকা দাবি করে আসছিলেন।
তিনি আরও বলেন, গত ২৭ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে লিটুসহ কয়েকজন তার অফিসে প্রবেশ করে তাকে মারধর করেন। পরে জোরপূর্বক ৭০ লাখ টাকার একটি চেক, একটি সাদা চেক এবং দুটি সাদা স্ট্যাম্পে তার স্বাক্ষর নেওয়া হয়।
আব্দুল আজিজের দাবি, ঘটনার পরপরই তিনি ব্যাংকে অভিযোগ করায় ওই চেকের মাধ্যমে কোনো টাকা উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় তিনি আদালতে নালিশি মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণের জন্য কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি আরও জানান, শনিবার রাতে সিসিটিভি ফুটেজ তিনিই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে মোস্তাফিজুর রহমান লিটু বলেন, ঘটনাস্থলে যারা গিয়েছিলেন তারা সবাই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক। তার দাবি, আব্দুল আজিজ তাদের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। বিষয়টি নিয়ে পরে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত জানানো হবে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব আফরোজা খানম নাসরিন বলেন, কেউ অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নেওয়া যেতে পারে। তবে প্রকাশ্যে কাউকে এভাবে লাঞ্ছিত করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। বিএনপি বা সহযোগী সংগঠনের কেউ এ ঘটনায় জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল মামুন উল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগী আব্দুল আজিজ থানায় এসে মৌখিকভাবে বিষয়টি জানিয়েছেন। আদালতের আদেশের কপি রোববার থানায় পৌঁছাতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এনএনবাংলা/
Tags: অগ্রণী হাউজিং লিমিটেডএমডিবরিশাল
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন