সাম্প্রতিক
জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের দাবি নুরের, বললেন ‘সুযোগ দিলে ভয়ংকর বিপর্যয়’ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরের বিজ্ঞপ্তি দিয়েও প্রত্যাহার ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনের ডিম–মুরগির-সবজির দাম বাড়তি, বাজারে হাঁসফাঁস ক্রেতার ‘হিট আইল্যান্ডে’ পরিণত হচ্ছে ঢাকা, কী উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার ‘ক্রেজি পিল’ ইয়াবায় বিপর্যস্ত বাংলাদেশ, বাড়ছে আসক্তির ঝুঁকি রাষ্ট্রপতির শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শপথ নিলেন নতুন চার মন্ত্রী ও দুই প্রতিমন্ত্রী রাজধানীর সড়কে এআই ক্যামেরার ‘অদৃশ্য চোখ’, কোন অপরাধে কত জরিমানা হোটেল রুম নোংরা ও জরিমানার অভিযোগ, জেমসের দাবি—‘এটা কোনো বিষয়ই না’ আর্জেন্টিনার পারেদেস ১০ ম্যাচ নিষিদ্ধ, আরও যারা শাস্তি পেলেন
Skip to content

এক যুগেও সংস্কার হয়নি কয়রার উপকূল রক্ষা বেড়িবাঁধ, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

খুলনার কয়রা উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৫ নম্বর কয়রা গ্রামের নদী রক্ষা বেড়িবাঁধ (পানি উন্নয়ন বোর্ডের সড়ক) এক যুগেরও বেশি সময় ধরে সংস্কার না হওয়ায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

সিসি ব্লকের টেম্পারিং নষ্ট হয়ে অসংখ্য খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষা ও জোয়ারের সময় বাঁধের ভেতরের অংশে ঘোগ তৈরি হয়ে নদীর পানি ঢুকে পড়ছে। এতে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগের পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

শনিবার (৪ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, ৪ নম্বর কয়রা লঞ্চঘাটের দক্ষিণ পাশ থেকে স্লুইসগেট অভিমুখী প্রায় ৮০০ মিটার বেড়িবাঁধের সড়ক দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার হয়নি। বাঁধের ভেতরের দিকের মাটি ধসে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সিসি ব্লকের আবরণ উঠে যাওয়ায় পথটি এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। মোটরসাইকেল, ভ্যান ও পথচারীদের চলাচলে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নব্বইয়ের দশকে নির্মিত নদী রক্ষা বাঁধটি ২০০৯ সালের ঘূর্ণিঝড় আইলায় মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নদী ভাঙনে বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছিল। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় বাঁধটি রক্ষা করা হয় এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড আংশিক সংস্কার করে। ২০১৩ সালের দিকে প্রায় ৫০০ মিটার এলাকায় নদীভাঙন প্রতিরোধে সিসি ব্লক স্থাপন করা হলেও এরপর আর কোনো বড় ধরনের সংস্কার হয়নি। দীর্ঘদিনের বৃষ্টি, জলোচ্ছ্বাস ও অবহেলায় বাঁধের ভেতরের অংশের মাটি সরে গিয়ে ঝুঁকি আরও বেড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, “রাস্তাটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় হওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদও কোনো কাজ করতে পারে না। এটি সংস্কার করা হলে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, রোগীসহ সাধারণ মানুষের যাতায়াত অনেক সহজ হবে।”

আরেক বাসিন্দা শাহ আলম বলেন, “সিসি ব্লকের টেম্পারিং উঠে গিয়ে বড় বড় গর্ত হয়েছে। প্রতিদিন দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে গোলাম সরদারের বাড়ি থেকে স্লুইসগেট পর্যন্ত অংশে দ্রুত মাটি ভরাট ও সংস্কার না করলে বর্ষা মৌসুমের বড় জোয়ারে পুরো এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”

এলাকাবাসীর ভাষ্য, এই সড়ক শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়; এটি নদী রক্ষা বেড়িবাঁধের অংশ হওয়ায় ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাসসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় মানুষের নিরাপদ আশ্রয় ও জরুরি যাতায়াতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় এটি এখন জনদুর্ভোগের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য নাজমুচ্ছায়াদাত বলেন, “বেড়িবাঁধটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে থাকায় ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষে সংস্কার করা সম্ভব নয়। দ্রুত প্রয়োজনীয় মেরামত না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার পাশাপাশি বাঁধও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।”

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. সুলতান মাহমুদ বলেন, “আপনার মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। আগামী অর্থবছরের বাজেটে ৪ নম্বর কয়রা লঞ্চঘাটের দক্ষিণ পাশ থেকে স্লুইসগেট পর্যন্ত সিসি ব্লক সংবলিত সড়কটি সংস্কারের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”