জঙ্গল সলিমপুরে গভীর রাতে র্যাব ক্যাম্পে হামলা, আটক ২৫

চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে র্যাবের অস্থায়ী ক্যাম্পে গভীর রাতে হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। হামলার পরপরই পুলিশ, র্যাবসহ যৌথবাহিনী সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে ২৫ জন সন্দেহভাজনকে আটক করেছে। বর্তমানে এলাকায় এক হাজারের বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য অভিযান পরিচালনা করছেন।
রোববার গভীর রাতে জঙ্গল সলিমপুরের আলীনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, সন্ত্রাসী ইয়াসিন বাহিনীর সদস্যরা পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভ্যাকু মেশিন ব্যবহার করে সলিমপুর-আলীনগর সড়কের অন্তত তিনটি স্থানে চার থেকে পাঁচ ফুট গভীর গর্ত করা হয়। এতে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর একদল সন্ত্রাসী র্যাবের অস্থায়ী ক্যাম্প লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ শুরু করে। একই সঙ্গে বুলডোজার দিয়ে নির্মাণাধীন ক্যাম্পের স্থাপনা ভেঙে ফেলার অভিযোগও উঠেছে। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে এলাকায় তাণ্ডব চালায় হামলাকারীরা।
র্যাব-৭ চট্টগ্রামের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান বলেন, পরিকল্পিতভাবে ইয়াসিন বাহিনীর সদস্যরা র্যাব ক্যাম্পে হামলা চালিয়েছে। সন্ত্রাসীরা গুলি ছুড়লে র্যাব সদস্যরাও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যাতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে না পারে, সেজন্য রাস্তা কেটে দেওয়া হয়েছিল। তবে হামলার খবর পেয়েই যৌথবাহিনী দ্রুত অভিযান চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থল থেকে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের পরিচয় যাচাই-বাছাই চলছে। অভিযানের সময় কিছু সন্ত্রাসী পালিয়ে যায় বলেও জানিয়েছেন তিনি।
চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ-ফৌজদারহাট সংযোগ সড়কের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের বিপরীত পাশের পাহাড়ি সড়ক দিয়ে জঙ্গল সলিমপুর ও আলীনগরে প্রবেশ করা যায়। প্রায় ৩ হাজার ১০০ একর সরকারি খাসজমি দখল করে দীর্ঘদিন ধরে সেখানে আধিপত্য বিস্তার করে আসছে ইয়াসিন বাহিনী।
এর আগে গত ৯ মার্চ সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ ও বিজিবির প্রায় ৩ হাজার ২০০ সদস্যের যৌথ অভিযানে প্রথমবারের মতো জঙ্গল সলিমপুরের নিয়ন্ত্রণ নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অতীতে একাধিকবার অভিযান চালিয়েও পুরো এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেনি প্রশাসন। বরং বিভিন্ন সময় হামলার শিকার হয়েছেন পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
যৌথ অভিযানের পর সরকার সেখানে পুলিশ ও র্যাবের জন্য দুটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেয়। এর অংশ হিসেবে আলীনগরে র্যাবের একটি ক্যাম্প নির্মাণকাজ চলছিল। হামলার সময় সেই ক্যাম্পটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে।
উল্লেখ্য, আগের যৌথ অভিযানে ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও ইয়াসিন বাহিনীর প্রধান মো. ইয়াসিন ও রোকন বাহিনীর প্রধান রোকন উদ্দিন এখনো গ্রেপ্তার হয়নি।
এনএনবাংলা/
