Skip to content

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে ‘বাধ্য হয়ে’: প্রতিমন্ত্রী অমিত

ছবি: সংগৃহীত

দেশে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ‘বাধ্য হয়ে’ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব মোকাবিলায় সরকার এ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। তবে বিশ্ববাজারে দাম কমে এলে দেশের বাজারেও দ্রুত মূল্য সমন্বয় করা হবে।

সোমবার (১ জুন) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।

জ্বালানি তেলের সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতি মাসেই জ্বালানির মূল্য সমন্বয় করা হয়। তবে মে মাসে কোনো সমন্বয় করা হয়নি, কারণ এপ্রিল মাসেই মূল্য সমন্বয়ের একটি সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছিল।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার সবসময় চেষ্টা করেছে সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ না দিতে। কিন্তু একান্ত উপায় না থাকলে কিছু অপ্রিয় সিদ্ধান্ত নিতে হয়। মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে এমন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে।

তিনি জানান, দেশের মোট জ্বালানি ব্যবহারের প্রায় ৬৬ শতাংশই ডিজেল, যার জন্য সরকারকে সবচেয়ে বেশি ভর্তুকি দিতে হয়। এরপরও সাধারণ মানুষের স্বার্থে ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

পরপর দুই দফা জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, সরকার আশা করছে মধ্যপ্রাচ্যের সংকট দ্রুত সমাধান হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেলে দেশেও দ্রুত মূল্য সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, অতীতে জ্বালানির দাম বাড়লেও একই গতিতে কমেনি—এমন অভিজ্ঞতা মানুষের রয়েছে। তবে বর্তমান সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ এবং সংকট কেটে গেলে জনগণের ভোগান্তি কমাতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত ৩১ মে রাতে সরকার ডিজেল ছাড়া অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ৫ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা দেয়, যা ১ জুন থেকে কার্যকর হয়েছে।

নতুন মূল্য অনুযায়ী, ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার অকটেনের দাম ১৪০ টাকা থেকে বেড়ে ১৪৫ টাকা, পেট্রোলের দাম ১৩৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৪০ টাকা এবং কেরোসিনের দাম ১৩০ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ডিজেলের দাম আগের মতোই প্রতি লিটার ১১৫ টাকা রাখা হয়েছে।

এনএনবাংলা/