আদ-দ্বীন হাসপাতালে ছয় শিশু মৃত্যুর ঘটনায় পোস্টমর্টেম জরুরি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
রাজধানীর আদ-দ্বীন হাসপাতালে ছয় শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় ময়নাতদন্তের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো তদন্তাধীন রয়েছে। হাসপাতালের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এসি) বন্ধ থাকা, শ্বাসরোধজনিত পরিস্থিতি কিংবা গ্যাস লিকেজ—সম্ভাব্য সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “শিশুগুলোর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে তদন্তের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। তদন্তে যারাই দায়ী প্রমাণিত হবে, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে মৃত শিশুদের ময়নাতদন্ত না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তার ভাষায়, “পোস্টমর্টেম ছাড়া মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা কঠিন। এতে ভবিষ্যতে বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযুক্তদের পক্ষে সুবিধা সৃষ্টি হতে পারে।”
অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা তাদের দায়িত্ব। প্রয়োজনে দাফনের পর আদালতের অনুমতি নিয়ে মরদেহ উত্তোলনের মাধ্যমে পোস্টমর্টেম করা সম্ভব বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “যদি সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে থাকে, তা অবশ্যই নিন্দনীয়। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।”
তবে এ বিষয়ে কোনো মামলা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার জানা মতে এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। মামলা হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। তিনি আরও বলেন, তথ্য সংগ্রহ করা সাংবাদিকদের অধিকার এবং কোনো অবস্থাতেই তাদের কাজে বাধা দেওয়া উচিত নয়। তবে নির্দিষ্ট অভিযোগ ও আইনি প্রক্রিয়ার ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিকে রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যা মামলার বিচারকাজ দ্রুত শেষ করতে সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিচ্ছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বিচারিক কার্যক্রম আদালতের এখতিয়ারভুক্ত হলেও সাক্ষ্যগ্রহণ ও প্রসিকিউশন-সংক্রান্ত দায়িত্ব সরকার যথাযথভাবে পালন করছে। মামলায় অধিকাংশ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি সাক্ষীদের আদালতে হাজির করতে সরকার সহযোগিতা করছে।
তবে বিচারাধীন মামলার বিষয়ে মন্তব্য করা সমীচীন নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সবার প্রত্যাশা দ্রুত বিচার সম্পন্ন হোক। আমরা সেই পরিবেশ নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি। তবে রায় কখন হবে বা কী হবে, সেটি সম্পূর্ণ আদালতের বিষয়।”
মামলার তদন্তে নতুন কোনো ব্যক্তি জড়িত থাকার তথ্য রয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। তবে চিকিৎসক ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের সাক্ষ্যগ্রহণসহ কয়েকটি আনুষ্ঠানিকতা এখনো বাকি রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় এক কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতারের তথ্যও তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি জানান, প্রযুক্তির সহায়তায় দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের আটক করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তাদের মধ্যে কয়েকজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।
এনএনবাংলা/পিএইচ
