Skip to content

‘লুটেরাদের ব্যাংক খাতে পুনর্বাসনের মাধ্যমে আবারও লুটপাটের সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে’ — মিয়া গোলাম পরওয়ার

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, লুটপাটে জড়িত ব্যক্তিদের ব্যাংক খাতে পুনর্বাসনের মাধ্যমে দেশে আবারও আর্থিক খাত লুটের সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এ বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে জামায়াতের দায়িত্বশীল নেতাকর্মীদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে খুলনা নগরীর সোনাডাঙ্গাস্থ আল-ফারুক সোসাইটি মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর খুলনা বিভাগের জেলা ও মহানগরীর দায়িত্বশীল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার সাড়ে তিন মাস অতিবাহিত হলেও দেশে প্রত্যাশিত স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে পারেনি। জ্বালানি খাতে বিশৃঙ্খলা চলছে এবং বাজার পরিস্থিতিও নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার ব্যর্থ হচ্ছে। দেশের শান্তি, উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা, জননিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় জামায়াতে ইসলামী সরকারের ভালো কাজের সহযোগিতা করবে এবং জনগণের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করবে।

তিনি আগামী ২০ জুন অনুষ্ঠিতব্য ১১ দলীয় ঐক্যের খুলনা বিভাগীয় সমাবেশ সফল করতে দলীয় দায়িত্বশীলদের প্রতি আহ্বান জানান।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও খুলনা অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চল পরিচালক মোবারক হোসাইন।

এ সময় বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, ড. আবু সাদিক, খুলনা মহানগরী আমীর মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমানসহ খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরীর নেতৃবৃন্দ।

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যর্থতার কারণে জনগণের জানমাল ও নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে। দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির দায় সরকার কোনোভাবেই এড়াতে পারে না।

তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকারের পাশাপাশি সাধারণ জনগণকেও সচেতন ও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের মাধ্যমে দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হলেও প্রত্যাশিত পরিবর্তন এখনো দৃশ্যমান হয়নি। নির্বাচন ও গণতন্ত্রের প্রশ্নে তিনি সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন এবং জনগণের প্রত্যাশা বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

সমাবেশে খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরীর দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।