Skip to content

বাজেট ২০২৬-২৭

৫ হাজার এমবিবিএস চিকিৎসক, ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ হবে

ছবি: ইন্টারনেট

২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগ ও জনবল বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে সরকার। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতায় জানিয়েছেন, অবিলম্বে ৫ হাজার এমবিবিএস চিকিৎসক এবং ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের কার্যক্রম শুরু করা হবে। নিয়োগপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মীদের ৮০ শতাংশ নারী হবেন।

এটি দেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট এবং অর্থমন্ত্রী হিসেবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রথম বাজেট। একই সঙ্গে এটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারেরও প্রথম বাজেট।

বাজেট বক্তৃতায় স্বাস্থ্য খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য ও কর্মপরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়।

স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ দ্বিগুণের কাছাকাছি

২০২৬-২৭ অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা দেশের মোট জিডিপির ১.০১ শতাংশ। এর আগের অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ ছিল ৩৫ হাজার ৪৭৭ কোটি টাকা, যা জিডিপির ০.৫৮ শতাংশ।

সরকার পর্যায়ক্রমে স্বাস্থ্য খাতে সরকারি বিনিয়োগ বাড়িয়ে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

৫ হাজার ডাক্তার ও ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ

স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং জনবল সংকট দূর করতে দ্রুত ৫,০০০ এমবিবিএস চিকিৎসক ও ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। বাজেট বক্তৃতায় উল্লেখ করা হয়, এই স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে ৮০ শতাংশ নারী থাকবেন।

স্বাস্থ্য খাতের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যসমূহ

বাজেটে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—

  • প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে এবং শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে এক বা একাধিক আধুনিক প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট স্থাপন।
  • সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার আওতায় প্রত্যেক নাগরিককে জাতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত করে আধুনিক ই-হেলথ কার্ড প্রদান।
  • সার্জারিসহ জটিল ও বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা জেলা সদর হাসপাতালগুলোতে সম্প্রসারণ ও কেন্দ্রীভূত করা।
  • অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্ট (API) শিল্প পার্কসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, গবেষণা, বিনিয়োগ ও নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করা।
  • এলডিসি থেকে উত্তরণের পরও দেশের ওষুধ শিল্পের ধারাবাহিক বিকাশ ও উদ্ভাবনে সহায়তা দেওয়া।
  • হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে সরকারের প্রথম ১০০ দিনের মধ্যে প্রায় শতভাগ শিশুকে হাম-রুবেলা টিকার আওতায় আনা।

সরকারের মতে, স্বাস্থ্য খাতে এই বাড়তি বরাদ্দ ও জনবল নিয়োগ দেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, বিশেষায়িত চিকিৎসা এবং সর্বজনীন স্বাস্থ্যসুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।

এনএনবাংলা/