Skip to content

Upcoming
Germany
0-0
Curaçao
Source: ESPN

আজই যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি সইয়ের ঘোষণা ট্রাম্পের, ভিন্ন অবস্থানে ইরান

ছবি: সিএনপি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাত নিরসনে স্থানীয় সময় আজ রোববার একটি গুরুত্বপূর্ণ শান্তিচুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।তবে চুক্তি স্বাক্ষরের সময় নিয়ে এখনো কিছুটা অনিশ্চয়তার কথা জানিয়েছে ইরান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, চুক্তি কার্যকর হলে কৌশলগত নৌবাণিজ্য পথ হরমুজ প্রণালি আবারও “সবার জন্য উন্মুক্ত” করা হবে। একই পোস্টে তিনি ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুতের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে যুক্তরাষ্ট্র সেখানে গিয়ে তথাকথিত “নিউক্লিয়ার ডাস্ট” সরিয়ে নেবে এবং পরে তা ধ্বংস করা হবে।

চুক্তি বাস্তবায়নে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় থাকা পাকিস্তান ও আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ জানিয়েছেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই চুক্তিটি চূড়ান্ত হতে পারে এবং এ জন্য “ইলেকট্রনিক স্বাক্ষরের প্রস্তুতি” নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও জানান, আগামী সপ্তাহে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

তবে ট্রাম্পের এই আশাবাদের বিপরীতে কিছুটা সতর্ক অবস্থান নিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, সমঝোতা স্মারক সইয়ের নির্দিষ্ট তারিখ জানতে আরও অপেক্ষা করতে হবে এবং এটি রোববারই হচ্ছে—এমন নিশ্চয়তা এখনো নেই।

অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়েদ আব্বাস আরাঘচি শুক্রবার জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, প্রস্তাবিত চুক্তিতে লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর সংঘাত বন্ধের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

আরাঘচির ভাষ্য অনুযায়ী, চুক্তিতে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা এবং ইরানি বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়ও রাখা হয়েছে। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পরবর্তী ধাপে শুরু হবে বলে তিনি জানান।

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারাও চুক্তির কিছু বিষয় নিশ্চিত করেছেন। তাদের দাবি, চুক্তির শর্ত পূরণ করলে তেহরানকে অর্থনৈতিক সুবিধা দেওয়া হবে।

যদিও এর আগে বিভিন্ন মার্কিন প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, লেবাননের বিষয়টি হয়তো চুক্তির অন্তর্ভুক্ত নাও থাকতে পারে। কিন্তু ইরান শুরু থেকেই এটিকে চুক্তির অংশ করার ওপর জোর দিয়ে আসছিল বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, গত কয়েক মাস ধরেই সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে একাধিকবার আশাবাদ তৈরি হলেও শেষ মুহূর্তে তা ভেস্তে যায়। সর্বশেষ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পাল্টা জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায়। একই সঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয় তেহরান।

পরবর্তীতে এপ্রিলে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও উভয় পক্ষের মধ্যে থেমে থেমে পাল্টাপাল্টি হামলা চলতেই থাকে। চলতি সপ্তাহেও দুই দফায় নতুন করে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।

এদিকে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, সবকিছু যদি “দ্রুত, সহজ ও মসৃণভাবে” সম্পন্ন না হয়, তাহলে ওয়াশিংটনের হাতে “চূড়ান্ত বিকল্প” এখনো রয়েছে। যদিও তিনি আশা প্রকাশ করেন, সেই বিকল্প ব্যবহারের প্রয়োজন আর কখনোই হবে না।

এনএনবাংলা/পিএইচ