ভারতে বসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাতে পারবেন না শেখ হাসিনা

ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশটির ভূখণ্ড ব্যবহার করে কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারবেন না। ভারতীয় সংসদের স্থায়ী কমিটিকে এ বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকার। শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক এক বক্তব্যকে ঘিরে তৈরি হওয়া আলোচনার প্রেক্ষাপটে নয়াদিল্লি তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) প্রকাশিত ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে ঢাকার পাঠানো প্রত্যর্পণ আবেদনের বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংসদীয় কমিটিকে অবহিত করেছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আবেদনটি ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রযোজ্য আইন ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পর্যালোচনা করছে।
কংগ্রেস নেতা শশী থারুরের নেতৃত্বাধীন ভারতের পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ‘ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনাকে ভারতে আশ্রয় দেওয়া দেশটির দীর্ঘদিনের মানবিক ও ঐতিহ্যগত নীতির অংশ। সংকটাপন্ন বা জীবন-ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের আশ্রয় দেওয়া ভারতের নীতিগত অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
তবে কমিটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে, মানবিক কারণে আশ্রয় দেওয়া হলেও ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হবে না। এই নীতিই ভারত কঠোরভাবে অনুসরণ করে আসছে।
এদিকে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতীয় ভিসা কার্যক্রম দ্রুত সম্পূর্ণ স্বাভাবিক করারও জোর সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ভিসা সীমিত থাকায় দুই দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে নেতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে, যা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কেও প্রভাব ফেলছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর চলতি বছরের ২৮ জুন থেকে ভারত আবারও বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য ট্যুরিস্ট ভিসা প্রদান শুরু করে।
গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নে তাগিদ
প্রতিবেদনে ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত ৩০ বছর মেয়াদি ভারত-বাংলাদেশ গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ২০২৬ সালেই চুক্তিটির মেয়াদ শেষ হতে চললেও এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় আলোচনা শুরু হয়নি বলে উল্লেখ করেছে সংসদীয় কমিটি।
কমিটি বিলম্ব না করে দ্রুত ঢাকার সঙ্গে আলোচনা শুরু করার পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে হালনাগাদ হাইড্রোলজিক্যাল তথ্য, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার রাজ্য সরকারের মতামত বিবেচনায় রেখে চুক্তি নবায়নের উদ্যোগ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
এছাড়া বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিকে ভারতের কূটনৈতিক আলোচনার অন্যতম শীর্ষ অগ্রাধিকার হিসেবে বজায় রাখারও সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি।
এনএনবাংলা/
