Skip to content

LIVE 45'+3'
England
2-1
Croatia
Source: ESPN

রেলপথে যাতায়াত নিরাপদ করতে চালু হবে বৈদ্যুতিক ট্রেন: প্রধানমন্ত্রী

রেলপথে যাতায়াতকে আরও নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব করতে দেশের প্রধান রুটগুলোতে ধাপে ধাপে ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন (বৈদ্যুতিক ট্রেন) চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার বিকেলে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্বটি টেবিলে উত্থাপিত হয়।

কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সড়ক ও রেল যোগাযোগ উন্নয়নে সরকার বহুমুখী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এর অংশ হিসেবে মহাসড়কগুলোতে পর্যায়ক্রমে এক্সপ্রেসওয়ে গ্রিড এবং মাল্টিমোডাল পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি ওভারলোড নিয়ন্ত্রণে সড়কে স্মার্ট মনিটরিং ও এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করা হবে।

তিনি আরও জানান, রাজধানীর যানজট কমাতে রিং রোড ও রেডিয়াল রোড নেটওয়ার্ক নির্মাণের কাজ চলছে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ইন্টারসেকশনে ওভারপাস ও আন্ডারপাস নির্মাণের মাধ্যমে যান চলাচল আরও গতিশীল করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে একাধিক মেগা প্রকল্পের কথাও তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে যমুনা নদীর ওপর দ্বিতীয় যমুনা সেতু এবং পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া এলাকায় দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা, যা বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এছাড়া চলমান ও প্রক্রিয়াধীন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোর মধ্যে উল্লেখ করা হয়—

ঢাকা-আশুলিয়া ও ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সংযোগ প্রকল্প

পঞ্চবটি থেকে মুক্তারপুর সেতু পর্যন্ত দোতলা সড়ক নির্মাণ

বরিশাল-ভোলা সড়কে কালাবদর ও তেঁতুলিয়া নদীর ওপর সেতু নির্মাণ

শরীয়তপুর-চাঁদপুর ও ভুলতা-আড়াইহাজার সড়কে মেঘনা নদীর ওপর সেতু নির্মাণ

ঢাকা-চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ রেলওয়েকে দেশের জাতীয় পরিবহন ব্যবস্থার মূল মেরুদণ্ড হিসেবে গড়ে তুলতে একটি দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এই পরিকল্পনার আওতায় ২০৪৫ সাল পর্যন্ত তিনটি ধাপে মোট ২৪টি প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে দেশের প্রতিটি জেলা ও প্রধান শহরে রেলসেবা পৌঁছে দেওয়া যায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের পুরো রেল নেটওয়ার্ককে পর্যায়ক্রমে ডুয়েলগেজে রূপান্তর করা হচ্ছে। এতে যাত্রীবাহী ও মালবাহী ট্রেন চলাচল আরও সহজ ও কার্যকর হবে।

রেলখাতের সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনার কথাও তিনি তুলে ধরেন। স্বল্পমেয়াদে (২০২৬–২৭) ৩টি আন্তঃনগর ও ১০টি কমিউটার ট্রেন, মধ্যমেয়াদে (২০২৭–৩০) ১৫টি আন্তঃনগর ও ১৬টি কমিউটার ট্রেন এবং দীর্ঘমেয়াদে (২০৩১–৪৫) ১০৩টি আন্তঃনগর ও ৮৫টি কমিউটার ট্রেন যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সব মিলিয়ে এসব উদ্যোগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের রেলভ্রমণ আরও সহজ, নিরাপদ এবং আরামদায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

এনএনবাংলা/পিএইচ