Skip to content

Upcoming
England
0-0
Croatia
Source: ESPN

ঐতিহাসিক ‘ইব্রাহিমি মসজিদ’ দখলে নিয়েছে ইসরাইল

ছবি: ইন্টারনেট

অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরন শহরের ঐতিহাসিক ইব্রাহিমি মসজিদ ও সংলগ্ন ধর্মীয় স্থাপনার পরিকল্পনা এবং নির্মাণ-সংক্রান্ত ক্ষমতা ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে ইসরাইল। দেশটির অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ গতকাল মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছেন। খবর আল জাজিরার।

তিনি বলেন, ১৯৯৭ সালের হেবরন চুক্তির কিছু অংশ ‘বাতিল’ করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ওই এলাকায় ফিলিস্তিনি পৌরসভাকে পরিকল্পনা ও নির্মাণে সীমিত নিয়ন্ত্রণ দেওয়া হয়েছিল।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এই সিদ্ধান্তকে ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। ব্রিটিশ-আরব বোঝাপড়া পরিষদের পরিচালক ক্রিস ডয়েল আল জাজিরাকে বলেন, হেবরন দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিম তীরের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ শহরগুলোর একটি। নতুন এই পদক্ষেপ ওই অঞ্চলে সংঘাত আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ ইব্রাহিমি মসজিদ?

ইব্রাহিমি মসজিদ, যা ইহুদি ও খ্রিস্টানদের কাছে ‘টম্ব অব দ্য প্যাট্রিয়ার্কস’ নামে পরিচিত, তিনটি আব্রাহামিক ধর্মের কাছেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধর্মীয় স্থান। বিশ্বাস করা হয়, এখানে হজরত ইব্রাহিম (আ.), ইসহাক (আ.), ইয়াকুব (আ.) এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের সমাধি রয়েছে।

ইসলামে ইব্রাহিমি মসজিদকে অন্যতম পবিত্র স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ১৪শ শতকে নির্মিত এই মসজিদটি ১৯৯৪ সালের ভয়াবহ হামলার পর থেকে দীর্ঘদিন ধরে সংঘাত ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। ওই হামলায় ২৯ জন মুসল্লি নিহত হয়েছিলেন।

‘ঐতিহাসিক পদক্ষেপ’ দাবি স্মোট্রিচের

ইসরাইলি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ জানান, তিনি সোমবার ইব্রাহিমি মসজিদ ও এর আশপাশে বসবাসকারী ইহুদি বসতকারীদের জন্য পরিকল্পনা ও নির্মাণ-সংক্রান্ত ক্ষমতা ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের অনুমোদন দিয়েছেন।

হেবরনের দক্ষিণাঞ্চলীয় পশ্চিম তীরের কাছে নতুন একটি ইসরাইলি বসতি স্থাপনের ঘোষণা উপলক্ষে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, এই ‘ঐতিহাসিক পদক্ষেপ’ পশ্চিম তীরে ইসরাইলি সার্বভৌমত্ব আরও গভীর করবে।

ফিলিস্তিনিরা পশ্চিম তীরকে তাদের ভবিষ্যৎ স্বাধীন রাষ্ট্রের কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করে আসছে।

১৯৯৭ সালের হেবরন চুক্তিতে কী ছিল?

স্মোট্রিচের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, হেবরন শহরের যে ২০ শতাংশ অংশ বর্তমানে ইসরাইলি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, সেখানে পরিকল্পনা ও নির্মাণ-সংক্রান্ত ক্ষমতা এখন সরাসরি তেল আবিবের কর্তৃপক্ষের হাতে চলে যাবে।

১৯৯৭ সালের হেবরন চুক্তিতে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন (পিএলও)-এর তৎকালীন চেয়ারম্যান ইয়াসির আরাফাত স্বাক্ষর করেন।

চুক্তির আওতায় হেবরনকে দুটি অঞ্চলে ভাগ করা হয়—এইচ১ এবং এইচ২। এর মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে এবং প্রায় ২০ শতাংশ এলাকা ইসরাইলের নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়।

এই এইচ২ অঞ্চলের মধ্যেই অবস্থিত ইহুদিদের কাছে পরিচিত ‘টম্ব অব দ্য প্যাট্রিয়ার্কস’, মুসলিমদের ইব্রাহিমি মসজিদ এবং হেবরনের পুরোনো শহর।

তবে চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত ছিল, ইব্রাহিমি মসজিদসহ পুরো শহরের পরিকল্পনা ও নির্মাণকাজের তত্ত্বাবধান করবে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ। ইসরাইলের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত সেই ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এনএনবাংলা/