শিক্ষিকার ভাইরাল রিল নিয়ে যা বললেন ‘শ্রাবণের মেঘগুলো’র গায়ক

ডিফারেন্ট টাচ ব্যান্ডের জনপ্রিয় গান ‘শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে, অঝোরে নামবে বুঝি শ্রাবণের ধারা…’—তিন দশকের বেশি সময় পর আবারও সামাজিকমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের এক স্কুলশিক্ষিকার রিল ভিডিওকে ঘিরে শুরু হওয়া বিতর্কের পর এবার এ বিষয়ে নিজের অবস্থান জানিয়েছেন গানটির শিল্পী মেজবাহ রহমান। তার মতে, ভিডিওটিতে নেতিবাচক কিছু নেই এবং বিষয়টি নমনীয়ভাবে দেখা উচিত।
গণমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে ডিফারেন্ট টাচের প্রধান ভোকাল মেজবাহ রহমান বলেন, ‘এই গানটা আমরা সব সময়ই গাই। এটা চিরন্তন বৃষ্টির গান, বর্ষার গান, প্রকৃতির গান। ১৯৮৯ সালে গানটি তৈরি করি, ১৯৯০ সালে প্রকাশ করি। ৩৬ বছর পরও এর আবেদন একটুও কমেনি। সাম্প্রতিক সময়ে এটি সামাজিক মাধ্যমে প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, এটাও এক ধরনের ভিন্ন অনুভূতি।’
সম্প্রতি এই গান ব্যবহার করে একটি রিল ভিডিও প্রকাশ করেন ফেঞ্চুগঞ্জের স্কুলশিক্ষিকা বিউটি পাল। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিকমাধ্যমে তাকে নিয়ে সমালোচনা শুরু হয় এবং স্থানীয় কয়েকটি সংবাদমাধ্যমেও বিষয়টি আলোচনায় আসে। তবে তার সহকর্মীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষক একই গান ব্যবহার করে রিল তৈরি করে তার প্রতি সংহতি প্রকাশ করছেন।
বিউটি পালের প্রসঙ্গে মেজবাহ রহমান বলেন, ‘আমরা সব সময়ই বাবা-মায়ের পরে শিক্ষকদের স্থান দিই। শিক্ষকদের অবশ্যই কিছু বিষয় শিক্ষার্থীদের জন্য মেনে চলতে হয়। তবে এই রিল ভিডিও নিয়ে যেটা করা হচ্ছে, সেটা মোটেও কাম্য নয়। আমার কাছে এতে নেতিবাচক কিছু মনে হয়নি। এখানে একটি শ্রেণি কী অনৈতিক বিষয় খুঁজে পেল, আমি বুঝতে পারছি না।’
সামাজিকমাধ্যমের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘সামাজিকমাধ্যমকে আমরা কোনোভাবেই অস্বীকার করতে পারি না। প্রয়োজনেই সবাই এর দ্বারস্থ হয়। তাই একটি দিক দেখে কাউকে দোষারোপ করা ঠিক নয়।’
এদিকে, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোহেল মোল্লা জানিয়েছেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে এই ঘটনায় শিক্ষিকা বিউটি পালের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মেজবাহ রহমান। তার ভাষায়, ‘এটা নিয়ে ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হলে সেটি ঠিক হবে না। আমার মনে হয়, বিষয়টি নমনীয়ভাবে দেখা উচিত। কারণ এটি কোনো নেতিবাচক ভিডিও ছিল না।’
এনএনবাংলা/
