Skip to content

Upcoming
Spain
0-0
Saudi Arabia
Source: ESPN

কারখানার কর্মী থেকে জার্মানির বিশ্বকাপ তারকা

ছবি : রয়টার্স

টানা দুই আসরের গ্রুপ পর্বের হতাশা কাটিয়ে আবারও বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে জার্মানি। সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের এই প্রত্যাবর্তনের অন্যতম নায়ক ডেনিজ উন্দাভ, যার জীবনসংগ্রামের গল্প যেন সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানায়।

একসময় জীবিকা নির্বাহের জন্য দিনে আট ঘণ্টা কারখানায় কঠোর পরিশ্রম করতেন তিনি। কাজ শেষে ক্লান্ত শরীর নিয়েই ছুটতেন ফুটবল অনুশীলনে। সেই উন্দাভই এখন জার্মানির ভরসার প্রতীক। আইভরি কোস্টের বিপক্ষে জোড়া গোল করে ২-১ ব্যবধানে দলকে জয় এনে দিয়ে হয়ে উঠেছেন ম্যাচের নায়ক।

তবে কয়েক মাস আগেও জার্মানির বিশ্বকাপ দলে তার জায়গা নিশ্চিত ছিল না। এমনকি প্রধান কোচ জুলিয়ান নাগেলসমানের সঙ্গে প্রকাশ্য বাকবিতণ্ডায়ও জড়িয়ে পড়েছিলেন এই স্ট্রাইকার।

বিতর্কের শুরু এক ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমে উন্দাভের শেষ মুহূর্তের গোলকে ঘিরে। ম্যাচ শেষে তিনি গণমাধ্যমে বলেছিলেন, ‘আমি শুরুর একাদশে খেলার যোগ্যতা রাখি।’ তার এমন মন্তব্যে বিরক্ত হয়ে নাগেলসমান জবাব দিয়েছিলেন, ‘শুরু থেকে খেললে হয়তো ওই গোলটাই করতে পারতেন না উন্দাভ।’

তবে সেই মন্তব্যের জবাব মাঠেই দিয়েছেন উন্দাভ। আইভরি কোস্টের বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর সুর বদলাতে বাধ্য হয়েছেন জার্মান কোচও।

ম্যাচ শেষে নাগেলসমান বলেন, ‘কেন আমি ওর ছন্দ নষ্ট করব? দুই ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমে দুই ম্যাচেই গোল করেছে। তবে পরের ম্যাচে ওকে শুরু থেকেই খেলানো হতে পারে।’

উন্দাভের সাফল্যের পেছনের পথচলাটা মোটেও সহজ ছিল না। মাত্র ১৪ বছর বয়সে ছোটখাটো গড়নের অজুহাতে তাকে ভের্ডার ব্রেমেনের একাডেমি থেকে বাদ দেওয়া হয়। সেই প্রত্যাখ্যান কিশোর উন্দাভকে ভেঙে দিলেও থামিয়ে রাখতে পারেনি।

নতুন করে স্বপ্ন বুনে ১৭ বছর বয়সে পরিবারের কাছ থেকে দূরে জার্মানির চতুর্থ বিভাগের ক্লাব হাভেলসেতে যোগ দেন তিনি। সেখানে সপ্তাহে আয় ছিল মাত্র ১২০ পাউন্ড, যা দিয়ে জীবন চালানো সম্ভব ছিল না। তাই ফুটবলের পাশাপাশি কারখানার শ্রমিক হিসেবেও কাজ করতে হতো তাকে।

বেলজিয়ান গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেই সময়ের কথা স্মরণ করে উন্দাভ বলেন, ‘ভোর ৪টার দিকে ঘুম থেকে উঠতাম। এরপর সরাসরি কারখানায় গিয়ে আট ঘণ্টা কাজ করতাম। সেখান থেকে অনুশীলনে যেতাম। বাসায় ফিরতে ফিরতে রাত ৮টা বেজে যেত। পরদিন আবার একই রুটিন। বেঁচে থাকার জন্যই আমাকে কাজটা করতে হয়েছে। শুধু ফুটবল থেকে পাওয়া টাকায় তখন চলা সম্ভব ছিল না।’

২০২০ সালে বেলজিয়ামের ক্লাব ইউনিয়ন সেন্ট-জিলোয়াজে যোগ দেওয়ার পরই বদলে যেতে শুরু করে উন্দাভের ভাগ্য। সেখান থেকেই তার ক্যারিয়ারে আসে বড় মোড়, আর এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি সংগ্রাম জয় করা এই ফরোয়ার্ডকে।

এনএনবাংলা/পিএইচ