সাম্প্রতিক
কলকাতায় বাংলাদেশি রোগী কমতেই নতুন উদ্যোগ, লিয়াজোঁ টিম পাঠাচ্ছে হাসপাতালগুলো বিদেশ ভ্রমণে বছরে খরচ করা যাবে ১৮ হাজার ডলার দিল্লিতে ৬ তলা মেসবাড়ি ধসে নিহত ১, অর্ধশত শিক্ষার্থীর আটকা পড়ার শঙ্কা ‘কল্পনার ভেতর এখনও দেখা হয়, কথা হয়’—সালমান শাহকে নিয়ে মৌসুমী জানুয়ারিতে বিশ্ব ইজতেমা ঘিরে ফের বিশৃঙ্খলার শঙ্কা, অনুমোদন পায়নি সাদপন্থিরা আজও ডেঙ্গুতে ৪ মৃত্যু, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বললেন —‘ভয়াবহ রূপ নিতে পারে’ দেশে মানুষের মাথাপিছু ঋণ ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ টাকা সংঘাত এড়িয়ে সমঝোতার রাজনীতির আহ্বান রাষ্ট্রপতির পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের ফোন জব্দ, ‘ম্যাচ পাতানোর শঙ্কা’ ডিসেম্বরে দেশে ফেরা হচ্ছে না শেখ হাসিনার
Skip to content

কোনো গোল ও অ্যাসিস্ট ছাড়াই কীভাবে গোল্ডেন বল জিতলেন রদ্রি?

ছবি : সংগৃহীত

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি ‘গোল্ডেন বল’ জিতেছেন স্পেনের মিডফিল্ডার রদ্রি। মজার বিষয় হলো, পুরো টুর্নামেন্টে তার নামের পাশে ছিল না কোনো গোল বা অ্যাসিস্ট। এরপরই ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—ঠিক কোন বিবেচনায় তাকে বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে বেছে নিল ফিফা?

আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা জিতেছে স্পেন। সেই সাফল্যের নেপথ্যের অন্যতম প্রধান নায়ক ছিলেন ম্যানচেস্টার সিটির এই মিডফিল্ডার। গোল বা অ্যাসিস্টের পরিসংখ্যানে না থাকলেও, মাঠে তার প্রভাব ছিল স্পষ্ট। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে স্পেনের খেলার ছন্দ ধরে রাখা, বলের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা এবং রক্ষণ ও আক্রমণের মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরি করায় ছিল তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের কৌশল বাস্তবায়নের কেন্দ্রবিন্দুতেই ছিলেন রদ্রি। প্রতিপক্ষের আক্রমণ ভেঙে দেওয়া, ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করা এবং সতীর্থদের জন্য খেলার সুযোগ তৈরি—সব ক্ষেত্রেই তিনি ছিলেন ধারাবাহিক ও নির্ভরযোগ্য।

স্পেনের শক্তিশালী রক্ষণভাগের পেছনেও ছিল রদ্রির বড় অবদান। পুরো বিশ্বকাপে দলটি মাত্র একটি গোল হজম করেছে। মাঝমাঠে তার দাপুটে উপস্থিতি রক্ষণকে দিয়েছে বাড়তি সুরক্ষা, পাশাপাশি পুরো দলকে সংগঠিত ফুটবল খেলতে সাহায্য করেছে।

পরিসংখ্যানও রদ্রির প্রভাবকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। আট ম্যাচে তিনি ৬৫০টির বেশি সফল পাস সম্পন্ন করেছেন। এছাড়া উচ্চগতির দৌড় এবং হাই-ইনটেনসিটি রানের সংখ্যায়ও ছিলেন সবার ওপরে, যা তার পরিশ্রম, ফিটনেস এবং ম্যাচে প্রভাব বিস্তারের সক্ষমতার প্রমাণ।

বিশ্বকাপের গোল্ডেন বল সাধারণত গোলদাতা কিংবা আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের হাতেই ওঠে। তবে এবার সেই প্রচলিত ধারা থেকে বেরিয়ে একজন মিডফিল্ডারকে সেরা খেলোয়াড় হিসেবে বেছে নিয়েছে ফিফা। ব্যক্তিগত গোল বা অ্যাসিস্টের চেয়ে দলের সামগ্রিক সাফল্যে তার অবদানই এই স্বীকৃতির মূল কারণ হয়ে উঠেছে।

অন্যদিকে, আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি টুর্নামেন্টজুড়ে ৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট করে অসাধারণ পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছেন। তবুও শেষ পর্যন্ত ম্যাচ নিয়ন্ত্রণের দক্ষতা, ধারাবাহিকতা এবং দলের সাফল্যে সামগ্রিক অবদানের মূল্যায়নেই গোল্ডেন বল উঠেছে রদ্রির হাতে। এর মধ্য দিয়ে আবারও প্রমাণ হয়েছে, ফুটবলে একজন খেলোয়াড়ের অবদান শুধু গোল বা অ্যাসিস্টের সংখ্যায় সীমাবদ্ধ থাকে না।

এনএনবাংলা/