রানার্সআপ হয়েও বীরের মর্যাদা, আর্জেন্টিনায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা

টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নেমেছিল আর্জেন্টিনা। তবে ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে সেই স্বপ্ন অধরাই থেকে যায় আলবিসেলেস্তেদের। শুধু পরাজয়ই নয়, শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে লিওনেল মেসিদের নিষ্প্রভ পারফরম্যান্সও হতাশ করেছে সমর্থকদের।
নিউজার্সির ফাইনালে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত খেলায় আধিপত্য দেখিয়েছে স্পেন। মাঝমাঠ, আক্রমণভাগ ও রক্ষণ—প্রতিটি বিভাগেই স্প্যানিশদের সামনে অসহায় মনে হয়েছে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে। পুরো ম্যাচে দলের হয়ে একমাত্র উজ্জ্বল ছিলেন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেস। দুর্দান্ত ১১টি সেভ করে তিনি বড় ব্যবধানে হার এড়িয়েছেন। তবে তার সতীর্থদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স পাওয়া যায়নি। তবুও এমন হতাশাজনক ফাইনালের পরও দেশে বীরের সম্মান পেতে যাচ্ছেন মেসিরা।
এদিকে, নিজেদের ইতিহাসে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের আনন্দে উৎসবে মেতেছে স্পেন। দেশে ফেরার পর সেই উদযাপন আরও বড় পরিসরে হবে। অন্যদিকে, শিরোপা হাতছাড়া করলেও আর্জেন্টিনা দলকেও বিশেষভাবে সম্মান জানাতে চান দেশটির প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই। খেলোয়াড়েরা দেশে ফিরে উদযাপনের সিদ্ধান্ত নিলেই সেই দিন জাতীয় ছুটি ঘোষণার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
বিশ্বকাপ ফাইনালে হারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় আর্জেন্টিনা দলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রেসিডেন্ট মিলেই। শিরোপা না জিতলেও পুরো টুর্নামেন্টে দলের লড়াকু মানসিকতা ও অর্জনের প্রশংসা করেন তিনি।
মিলেই লিখেছেন, ‘অনেক ধন্যবাদ, খেলোয়াড়রা। শেষ পর্যন্ত আমরা লড়াই করেছি, বুট পায়ে মাঠে থেকেছি। আর্জেন্টিনা, সবসময় সবার ওপরে।’
জাতীয় ছুটির বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্ব উদযাপন। আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের এই অর্জন উদযাপন নিয়ে যে উদ্বেগ রয়েছে, সে বিষয়ে জানাতে চাই—খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফরা যেদিন উদযাপনের সিদ্ধান্ত নেবেন, সেই দিনটিকে জাতীয় ছুটি ঘোষণা করা হবে।’
তবে আর্জেন্টিনা দল কবে দেশে ফিরবে এবং আনুষ্ঠানিক উদযাপন কবে হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) জানিয়েছে, দলের সব খেলোয়াড় একসঙ্গে দেশে ফিরছেন না। ফাইনালের পর কয়েকজন ফুটবলার যুক্তরাষ্ট্র থেকেই নিজ নিজ ক্লাবে যোগ দিতে বা ব্যক্তিগত ছুটিতে যেতে পারেন।
এনএনবাংলা/
