Skip to content

Upcoming
Portugal
0-0
Uzbekistan
Source: ESPN

‘গ্যালারিতে মেসির সঙ্গে গোল উদযাপন করে এখনও কাপছি, সারাজীবন মনে রাখব’

গ্যালারিজুড়ে তখন হাজারো দর্শকের গগনবিদারী উল্লাস। মাঠে চলছে ম্যাচের শেষ মুহূর্তের রুদ্ধশ্বাস লড়াই। এমন উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতেই আর্জেন্টিনা ও অস্ট্রিয়ার ম্যাচে ইনজুরি টাইমের একেবারে শেষ মিনিটে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ ভেঙে বল জালে জড়িয়ে দেন লিওনেল মেসি। মুহূর্তেই আনন্দে ফেটে পড়ে পুরো স্টেডিয়াম। তবে নিজের ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় এই গোল উদযাপনের জন্য বিশ্বজয়ী অধিনায়ক বেছে নেন এক ভিন্ন পথ।

সতীর্থদের সঙ্গে উদযাপনে মেতে ওঠার আগে গোলপোস্টের পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা এক যুবকের দিকে এগিয়ে যান মেসি। বাড়িয়ে দেন হাত, আর একটি সাধারণ ‘হাই-ফাইভ’-এর মধ্য দিয়েই তৈরি হয় অবিস্মরণীয় এক মুহূর্ত। সেই দৃশ্য এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই ওই যুবককে আখ্যা দিচ্ছেন ‘বিশ্বের সবচেয়ে ভাগ্যবান সাংবাদিক’ হিসেবে।

মেসির সেই বিশেষ মুহূর্তের সঙ্গী ছিলেন হোয়াকিন ব্রুনো। আর্জেন্টিনার জনপ্রিয় ক্রীড়া সম্প্রচারমাধ্যম ‘টিওয়াইসি স্পোর্টস’-এর হয়ে মাঠে দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক গোলের পর ব্রুনোর সঙ্গেই আনন্দ ভাগ করে নেন এলএমটেন।

পরে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে টিওয়াইসি স্পোর্টসে একটি আবেগঘন কলাম লেখেন ব্রুনো। সেখানে তিনি লিখেছেন—

‘আমি এখনও কাঁপছি। পুরো ঘটনাটা এখনো আমার কাছে অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে। ম্যাচটি এতটাই কঠিন আর স্নায়ুচাপের ছিল যে, মাঠের পাশে দাঁড়িয়ে আমিও রীতিমতো কাঁপছিলাম। শেষ মুহূর্তে গোলবারের পেছনে আমি একাই ছিলাম, কারণ আমার সহকর্মী গ্যাস্টন এদুল ম্যাচ-পরবর্তী প্রতিক্রিয়া সংগ্রহের জন্য এরই মধ্যে মিক্সড জোনে চলে গিয়েছিলেন।’

তিনি আরও লেখেন, ‘সেটা ছিল ৯৫তম মিনিট। প্রথমে হুলিয়ান আলভারেজ শট নেন, কিন্তু শ্লাগার তা ঠেকিয়ে দেন। রিবাউন্ড পেয়ে মেসির প্রথম প্রচেষ্টাও গোলরক্ষক ও ডিফেন্ডাররা আটকে দেয়। তবে তৃতীয়বার আর ভুল করেননি ফ্লি (মেসি)। গোল হওয়ার সময় আমি মাত্র কয়েক মিটার দূরে দাঁড়িয়ে ছিলাম। একজন সাধারণ ফুটবল সমর্থকের মতো আমিও আবেগে চিৎকার করে উঠেছিলাম।’

এরপরের মুহূর্তটি যেন আজীবনের স্মৃতি হয়ে থাকবে ব্রুনোর কাছে।

‘হঠাৎ দেখি লিও আমার দিকে এগিয়ে আসছেন। আমি তখনও আনন্দে চিৎকার করছি, আর তিনি আমার দিকে তাকিয়ে এগিয়ে এলেন। এরপর আমাকে একটি হাই-ফাইভ দিলেন। একজন সাধারণ আর্জেন্টাইন এবং মেসির অন্ধ ভক্ত হিসেবে সেই মুহূর্তের অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব। এই ছবিটি এবং সেই স্মৃতি আমি সারাজীবন হৃদয়ে লালন করব। ঘটনার মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যেই বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে অভিনন্দনের বার্তায় আমার মোবাইল ফোন ভরে যায়।’

এনএনবাংলা/পিএইচ