নিরাপত্তা পেলে দেশে ফিরে বিচারের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত সাকিব

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের তারকা অলরাউন্ডার ও সাবেক আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসান জানিয়েছেন, সরকার যদি তার নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয়, তাহলে তিনি দেশে ফিরতে প্রস্তুত। প্রায় দুই বছর বিদেশে অবস্থানের পর দেশে ফিরে হত্যা মামলাসহ তার বিরুদ্ধে থাকা সব অভিযোগের বিচারের মুখোমুখি হতেও রাজি বলে জানিয়েছেন তিনি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাকিব বলেন, দেশে ফিরে ঘরের মাঠে একটি বিদায়ী সিরিজ খেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানাতে চান তিনি।
বর্তমানে শ্রীলঙ্কায় লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ (এলপিএল) খেলছেন সাকিব। সেখান থেকে ফোনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “সরকার যদি আমাকে নিশ্চিত করে যে, আমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে, তাহলে আমি দেশে ফিরতে, আদালতের মুখোমুখি হতে এবং প্রয়োজনীয় সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রস্তুত।”
দুই বছর আগে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসান যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হলেও নিজেকে নির্দোষ দাবি করে সাকিব বলেন, “আমি জানি, আমি কোনো অপরাধ করিনি।”
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আন্দোলনে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হয়। ওই ঘটনার পর শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে তিনি ভারতে অবস্থান করছেন। রয়টার্সকে শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, তিনি ও আওয়ামী লীগের অন্য নেতারা আগামী ডিসেম্বর বাংলাদেশে ফিরতে চান।
সাকিব বলেন, তিনিও দ্রুত দেশে ফিরতে চান। তবে তা সম্ভব না হলে শেখ হাসিনার সঙ্গে একসঙ্গে দেশে ফেরার চেষ্টা করবেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, “নেত্রী যা বলেন, আমরা সেটাই মেনে চলি। আমি মনে করি, তারা দেশে ফেরার বিষয়টি নিয়ে ভালোভাবে সিদ্ধান্ত নেবেন, আর আমরা তার দেওয়া নির্দেশনা মেনে চলব।”
গত বুধবার দিল্লি থেকে শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার বিষয়েও নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন সাকিব। ওই ঘটনার পর বাংলাদেশে তার খালি বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। তবে এ বিষয়ে অনুশোচনা নেই জানিয়ে তিনি বলেন, সেখানে তিনি শুধু শান্তি ও বাংলাদেশের উন্নয়নের কথা বলেছেন।
সাকিব আরও জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তার আইনজীবীর মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র, আইন ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়সহ পুলিশের কাছে চিঠি পাঠিয়ে তার বিরুদ্ধে করা ‘কথিত মিথ্যা’ মামলাগুলো প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়েছিলেন। তবে এ বিষয়ে কোনো জবাব পাননি বলে দাবি করেন তিনি।
দেশে ফেরার বিষয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলতেও আগ্রহ প্রকাশ করেছেন সাকিব।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর প্রসঙ্গে সাকিব বলেন, তিনি খুব বেশি সময় অপেক্ষা করতে চান না। বর্তমানে বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে নিয়মিত খেলছেন এবং খেলা উপভোগ করছেন। তবে বয়সের কথা বিবেচনা করে অবসরের সিদ্ধান্ত খুব বেশি দেরি করবেন না বলেও জানান বাংলাদেশের এই অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার।
এনএনবাংলা/
