সাম্প্রতিক
বলিউডের খ্যাতিমান অভিনেতা নানা পাটেকর মারা গেছেন চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ড, ১৫ বছরের চুক্তি সই গঙ্গা চুক্তি ডিসেম্বরে, মার্চে দৃশ্যমান হবে পদ্মা ব্যারাজ: পানিসম্পদ মন্ত্রী দিল্লিতে ৩ বছর পর আলোচনায় বসছে বাংলাদেশ-ভারত জঙ্গল সলিমপুরে হচ্ছে সারদার আদলে পুলিশ একাডেমি, সরবে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারও সৌদি-হুথি সংঘাত তীব্র হচ্ছে, যুদ্ধে জড়াচ্ছে তুরস্ক-পাকিস্তান-সিরিয়া বিশ্বসেরা ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় ঢাবির ২২ শিক্ষক-গবেষক সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডার কবি অ্যান কারসন আবরার হত্যার দ্রুত বিচার নিশ্চিতের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর রূপপুরে প্রথম ইউনিটে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর অনুমতি
Skip to content

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিবেদন

মানব পাচার নির্মূলে ন্যূনতম মানদণ্ড পূরণ করতে পারেনি বাংলাদেশ

ছবি: সংগৃহীত

মানব পাচার নির্মূলে ন্যূনতম মানদণ্ড পুরোপুরি পূরণ করতে পারেনি বাংলাদেশ। তবে এ ক্ষেত্রে সরকারের উল্লেখযোগ্য প্রচেষ্টার কথা বিবেচনায় নিয়ে ২০২৬ সালের ‘ট্রাফিকিং ইন পারসনস’ (টিআইপি) প্রতিবেদনে বাংলাদেশকে টিয়ার-২-এ রেখেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিচার, ভুক্তভোগী সুরক্ষা ও অভ্যন্তরীণ মানব পাচার মোকাবেলায় বিভিন্ন ঘাটতির কথা তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আগের বছরের তুলনায় মানব পাচার প্রতিরোধে বাংলাদেশের উদ্যোগ বেড়েছে। এর মধ্যে নতুন অধ্যাদেশ প্রণয়ন, তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম বৃদ্ধি এবং ভুক্তভোগীদের সেবা নিশ্চিত করতে ডিজিটাল ন্যাশনাল রেফারেল মেকানিজম পরীক্ষামূলকভাবে চালুর বিষয় রয়েছে। অভিবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষায়ও পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচ্য সময়ে বাংলাদেশে ৫ হাজার ২৬৩ সন্দেহভাজনকে ঘিরে ৯৬১টি মানব পাচার মামলা তদন্ত করা হয়েছে। একই সময়ে ১ হাজার ৭৯৫ জনের বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম শুরু হলেও দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন মাত্র ৭৬ জন। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ১০৩ এবং ২০২৩ সালে ৪০৭। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অপরাধের তুলনায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার সংখ্যা কম এবং পর্যাপ্ত কারাদণ্ডের পরিবর্তে জরিমানা আরোপের কারণে পাচার প্রতিরোধে শাস্তির কার্যকারিতা দুর্বল হয়েছে।

ভুক্তভোগী শনাক্ত ও সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রেও অবনতি দেখা গেছে। সরকার ১ হাজার ১৩৫ জন ভুক্তভোগী শনাক্ত করেছে, আগের প্রতিবেদনে এ সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৪৬২। সেবার জন্য পাঠানো হয়েছে ৭৪৫ জনকে, আগের বছর যা ছিল ১ হাজার ৬০৭। সরকারি হিসাবে সেবা পেয়েছেন মাত্র ১১১ জন; আগের প্রতিবেদনে এ সংখ্যা ছিল ৮৮৩।

রোহিঙ্গা শরণার্থী ও দেশে ফিরে আসা বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষা ও পুনর্বাসন ব্যবস্থাও অপর্যাপ্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিদেশগামী শ্রমিকদের উচ্চ নিয়োগ ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। এসব ব্যয়ের কারণে শ্রমিকেরা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন, যা ঋণনির্ভর জবরদস্তি ও মানব পাচারের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

প্রতিবেদনের মূল্যায়ন অনুযায়ী, মানব পাচার প্রতিরোধে বাংলাদেশের প্রচেষ্টা বাড়লেও অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করা, ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা এবং অভ্যন্তরীণ পাচার ও অভিবাসী শ্রমিকদের ঝুঁকি মোকাবেলায় এখনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি প্রয়োজন।

এনএনবাংলা/