সাম্প্রতিক
মবের শিকার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অভিযোগ তদন্ত করবে জাতিসংঘ, আসছেন কর্মকর্তা ঢাকা থেকে হঠাৎ দিল্লি: ত্রিবেদীর চমক, নাকি শুধুই দৌড়ঝাঁপ? ‘জামিন পেলে সমাজে বিরূপ ধারণা সৃষ্টি হবে’, গাজী নজরুলের বিষয়ে বিচারক তিন মাসে এলপিজির কাঁচামালের দাম কত ও কেন বাড়লো? ঢাকার রাস্তায় ‘মায়া রাইড’, নারী যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দিচ্ছেন নারী চালকরাই উত্তাল দিল্লি: পুলিশে টেনে-হিঁচড়ে সরানোর পরও রাস্তায় রাহুল-প্রিয়াঙ্কার অবস্থান শেষ ম্যাচেও মেসি জাদুতে বুঁদ বিশ্ব, বিদায় বার্তায় কী বললেন ফুটবলের যাদুকর? কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ. লীগের ‘অপতৎপরতা’ কঠোরভাবে দমন করা হবে: ডিবিপ্রধান সেপ্টেম্বরে বেড়েছে মূল্যস্ফীতি, বিপাকে নিম্ন আয়ের মানুষ এয়ারবাসের ১০ উড়োজাহাজ কিনতে চুক্তি সই
Skip to content

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন

নিরাপত্তা ছাড়া মিয়ানমারে ফিরতে চান না রোহিঙ্গারা

নিজ ভূমি মিয়ানমারে ফিরতে চান রোহিঙ্গারা। তবে আগের মতো নিরাপত্তাহীনতা ও অধিকারহীন জীবনে ফিরতে রাজি না তারা।

নাগরিকত্ব ও পরিচয়ের স্বীকৃতি, নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক তদারকি চান তারা। একই সঙ্গে জমি-ঘর ফেরত ও পুনর্বাসন, চলাচলের স্বাধীনতা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও জীবিকার সুযোগ এবং বিচার ও জবাবদিহির নিশ্চয়তা চান। এসব শর্ত পূরণ না হলে মিয়ানমারে ফিরতে চান না ৮৭ শতাংশের বেশি রোহিঙ্গা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

‘অনিশ্চিত ঘরে ফেরা: উখিয়ার ক্যাম্প থেকে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিয়ে রোহিঙ্গাদের ভাবনা’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি গতকাল বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে প্রকাশ করা হয়। গত ২ থেকে ৬ আগস্ট উখিয়ার ১৭টি শিবিরে ৮১৬ জন রোহিঙ্গার ওপর জরিপ চালানো হয়। তাদের ৬৫ শতাংশ পুরুষ ও ৩৫ শতাংশ নারী। এর মধ্যে ৭১৩ জন মিয়ানমারে ফিরতে চান না বলে জানিয়েছেন। গবেষণায় ৭২ জনের বিস্তারিত সাক্ষাৎকার, হেড মাঝিদের নিয়ে দলীয় আলোচনা এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। ৩৬টি বিষয় ধরে গুণগত তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। প্রায় ২০ শতাংশ রোহিঙ্গা মিয়ানমারে নিজেদের সম্পত্তি থাকার কথা জানিয়েছেন।

আস্থার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকার এগিয়ে। প্রায় ৫৬ শতাংশ রোহিঙ্গা এই সরকারকে বিশ্বাসযোগ্য মনে করেন। জাতিসংঘের ওপর আস্থা রয়েছে প্রায় ২১ শতাংশের। মিয়ানমার সরকারকে বিশ্বাসযোগ্য মনে করেন ৪ শতাংশ। কোনো প্রতিষ্ঠানকে বিশ্বাস করেন না প্রায় ১৬ শতাংশ মানুষ।

গবেষণায় উঠে এসেছে, বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা রয়েছে। এর মধ্যে ২০২৪ সালে এসেছে প্রায় দেড় লাখ। দীর্ঘদিনের আশ্রয়জীবনে শিবিরের নানা সংকটও তাদের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। মিয়ানমারে ফেরার নিরাপত্তা ও অধিকার নিয়ে শঙ্কার পাশাপাশি বাংলাদেশে স্থায়ীভাবে একীভূত হওয়ার সুযোগও নেই। মানবিক সহায়তাও কমেছে। ২০২৬ সালের যৌথ সাড়া পরিকল্পনায় অর্থায়ন ৭১০ মিলিয়ন ডলারে নেমেছে, যা আগের বছরের চেয়ে ২৬ শতাংশ কম। মাথাপিছু রেশন ১২ ডলার থেকে কমে ৭ ডলার হয়েছে। রেশন কমায় কিছু পুরুষ শিবিরের বাইরে অনানুষ্ঠানিক কাজে যাচ্ছেন। এতে অপহরণ ও গ্রেপ্তারের ঝুঁকি বাড়ছে। কর্মহীনতা থেকে জুয়া, পারিবারিক সহিংসতা, ঋণগ্রস্ততা ও মানব পাচারের মতো সমস্যার কথাও উঠে এসেছে।

শিবিরে ১০ ফুট প্রস্থ ও ১৫ ফুট দৈর্ঘ্যের ঘরে ছয় থেকে ১০ জন থাকার তথ্যও এসেছে। শিক্ষাব্যবস্থায় সনদ নেই, স্বাস্থ্যসেবা সীমিত, চলাচল নিয়ন্ত্রিত এবং আইনগতভাবে চাকরির সুযোগ নেই। অংশগ্রহণকারীদের অভিযোগ, বিকেলের পর পাঁচ থেকে ছয়টি সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে চলে যায় শিবির। অপহরণ করে দুই লাখ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত মুক্তিপণ দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, রোহিঙ্গারা মিয়ানমারকে নিজ ভূমি হিসেবে প্রত্যাখ্যান করছে না; তারা সেই পরিস্থিতিতে ফিরতে চায় না, যে পরিস্থিতি তাদের পালাতে বাধ্য করেছিল। শুধু সীমান্ত পার হলেই প্রত্যাবাসন সফল হবে না। নিরাপত্তা, অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মিয়ানমার অনুবিভাগের মহাপরিচালক মো. তৌফিক-উর-রহমান বলেন, টেকসই প্রত্যাবাসনের কোনো বিকল্প নেই। গবেষণাটি প্রত্যাবাসনের সমস্যাগুলো সমাধানে নীতিনির্ধারণে সহায়তা করবে। আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীগুলোকে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান মু. রেজাউল করিম সোহাগ বলেন, প্রত্যাবাসনে সবার আগে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। গবেষণায় উঠে আসা আর্থসামাজিক সংকট, শিক্ষার ঘাটতি, অপহরণ, চাঁদাবাজি ও সহিংসতার বিষয়গুলো প্রকাশ্যে এনে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

রোহিঙ্গা প্রতিনিধি মো. শফিক বলেন, ‘আমাদের মূল সমস্যা নাগরিকত্ব। নাগরিকত্ব, ভূমির অধিকার, নিরাপত্তা ছাড়া আমাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন হলে তা টেকসই হবে না। আমরা প্রতিশোধ চাই না, ন্যায়বিচার চাই।’
গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অপরাধবিজ্ঞান গবেষণা ফোরামের সভাপতি সাফায়েত হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আদৃতা আরিফ।

এনএনবাংলা/এনজেড