রামপাল হবে দেশের বৃহৎ সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র

দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন বৃদ্ধি, উৎসে বৈচিত্র্য আনা এবং কার্বন নির্গমন কমাতে সরকার বাগেরহাটের রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট সক্ষমতার এক বিশাল সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে ।
বুধবার (৭ অক্টোবর) একনেক চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে হতে যাওয়া জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের জন্য প্রকল্পটির খসড়া উপস্থাপন করা হবে। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৪৯৮.০৮ কোটি টাকা।
‘রামপাল ৪৪২ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প’ শীর্ষক প্রস্তাবটি এনেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। প্রকল্পের জন্য বিপিডিবির নিজস্ব তহবিল থেকে ৩৭৪.৭১ কোটি টাকা এবং বিদ্যুৎ খাত উন্নয়ন তহবিল থেকে ২ হাজার ১২৩.৩৭ কোটি টাকা অর্থায়ন করা হবে।
১৩টি প্রকল্পের মধ্যে ১০টি নতুন, দুটি সংশোধিত এবং একটি মেয়াদ বৃদ্ধির প্রকল্প। এর আগে পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে এসব প্রকল্পের মোট ব্যয় ১৬ হাজার ২০৪ কোটি টাকা প্রাক্কলন করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে তা বেড়ে ১৬ হাজার ২০৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা হয়েছে।
সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে নতুন করে জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হবে না। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য ২০১২ সালে রামপালে ১ হাজার ৮৩৪ একর জমি অধিগ্রহণ করেছিল বিপিডিবি। এর একাংশে বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানির মৈত্রী সুপার থার্মাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। অবশিষ্ট ব্লক-বি এলাকায় জমি উন্নয়ন ও সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। ওই জমিতেই সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় ন্যূনতম ৬৪০ ওয়াট পিক ক্ষমতার সৌর প্যানেল স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি ৩৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতার গ্রিড-টাইড ইনভার্টার ও একটি পুলিং সাবস্টেশন নির্মাণ করা হবে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করতে ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ ডাবল সার্কিট ২৩০ কেভি সঞ্চালন লাইন এবং উপকেন্দ্রে দুটি ২৩০ কেভি বে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ছাড়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ডরমিটরি, রেস্টহাউস ও মসজিদ এবং তিনতলা নিয়ন্ত্রণ ভবন নির্মাণ করা হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে দেশীয় পরামর্শক নিয়োগের প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।
প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালু হলে জাতীয় গ্রিডে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ যুক্ত হবে। একই সঙ্গে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা ও কার্বন নিঃসরণ কমানোর পাশাপাশি দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে এটি ভূমিকা রাখবে।
এদিকে একনেক সভায় বাংলাদেশ রেলওয়ের সক্ষমতা বাড়াতে ২ হাজার ৭৬৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩০টি মিটারগেজ ডিজেল-ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ সংগ্রহের প্রকল্পও অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন থেকে ৮১১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা এবং এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের ঋণ হিসেবে ১ হাজার ৯৫৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকা সংগ্রহের প্রস্তাব রয়েছে।
সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সাতটি প্রকল্প ছাড়াও নৌপরিবহন, পররাষ্ট্র এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়। ১৩টি প্রকল্পের মধ্যে ১০টি নতুন, দুটি সংশোধিত এবং একটি মেয়াদ বৃদ্ধির প্রকল্প।
এনএনবাংলা/এফএস
