সৌদি আরবগামী ৬২ ফ্লাইট বাতিল, শাহজালালে দুর্ভোগে ৯ হাজারের বেশি যাত্রী

সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সৌদি আরবগামী ও ট্রানজিটের মোট ৬২টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ৯ হাজার ৬৭৪ জন যাত্রী।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) পর্যন্ত বাতিল হওয়া এসব ফ্লাইটের কারণে সৌদি আরবে কর্মস্থলে যোগ দিতে আসা যাত্রীরা বিপাকে পড়েছেন। বিমানবন্দরে পৌঁছে ফ্লাইট বাতিলের খবর জানতে পেরে দুর্ভোগে পড়ছেন তারা। ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের বিদায় জানাতে আসা স্বজনদেরও। আগে থেকে ফ্লাইট বাতিলের তথ্য জানানো হলে এমন পরিস্থিতি এড়ানো যেত বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বাতিল ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৯টি, ইউএস-বাংলার ২টি, সৌদিয়ার ৫টি ও রিয়াদ এয়ারের ৭টি রয়েছে। এ ছাড়া ইন্ডিগোর ১৬টি, সালামের ৩টি, ইজিপ্টএয়ারের ১টি, এমিরেটসের ৯টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৫টি এবং ফ্লাইদুবাইয়ের ৫টি ট্রানজিট ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের যেকোনো বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনায় সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে ফ্লাইট বাতিল, বিলম্ব বা সময়সূচি পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে এয়ারলাইনসগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার রাতে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসগুলোকে পাঠানো চিঠিতে এসব নির্দেশনা দেন। এতে এসএমএস, ফোনকল, ই-মেইল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে যাত্রীদের ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা জানাতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি পুনরায় টিকিট বুকিং, অর্থ ফেরত ও পরিবর্তিত যাত্রার সময় সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ ছাড়া বিমানবন্দরে আটকে পড়া যাত্রীদের বসার ব্যবস্থা, খাবার, পানীয় জল ও প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। বয়স্ক, শিশু, প্রতিবন্ধী ও ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রীদের বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি ভিসার মেয়াদ ও অভিবাসনসংক্রান্ত জটিলতায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগেও সহায়তা করতে হবে।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি এয়ারলাইনসকে সার্বক্ষণিক যোগাযোগের জন্য একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো যাত্রীকে অসহায় অবস্থায় না রেখে সহানুভূতিশীল আচরণ ও সঠিক তথ্য দিয়ে সহযোগিতা নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবের রিয়াদ, দাম্মাম, জেদ্দা ও মদিনা বিমানবন্দরে নিয়মিত ফ্লাইট চলাচল করে।
এনএনবাংলা/
