সাম্প্রতিক
Skip to content

আবুধাবি টেস্ট

বাংলাদেশকে জিততে দিলো না আফগানিস্তান

ছবি: সংগৃহীত

৪৭৯ রানের বিশাল লক্ষ্য দিয়েও আফগানিস্তানকে হারানো গেল না। জয়ের জন্য শেষ দিনে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল মাত্র ৩ উইকেট। হাতে ছিল পর্যাপ্ত সময়ও। কিন্তু সেদিকউল্লাহ আতলের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি, কাইস আহমেদের শেষদিকের প্রতিরোধ এবং বাংলাদেশের ফিল্ডিংয়ে একের পর এক সুযোগ হাতছাড়া—সব মিলিয়ে আবুধাবি টেস্টে জয়ের বদলে ড্র নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হলো বাংলাদেশকে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) টেস্টের পঞ্চম ও শেষ দিনে ১৪২ ওভার ব্যাট করে ৮ উইকেটে ৩৪৬ রান তুলে ইনিংস শেষ করে আফগানিস্তান। দিনের শুরুতে ৩ উইকেটে ১৩২ রান নিয়ে খেলতে নামা দলটি শেষ দিনে আরও ৫ উইকেট হারিয়ে যোগ করে ২১৪ রান। ৮০ বলে ৪৯ রান করে অপরাজিত থাকেন কাইস আহমেদ। অন্যপ্রান্তে ১২ বল খেলে কোনো রান না করে অপরাজিত থাকেন জিয়া-উর-রেহমান।

শেষ দিকে সেদিকউল্লাহ আতলকে ফিরিয়ে জয়ের আশা জাগিয়েছিল বাংলাদেশ। তখন আফগানিস্তানের হাতে ছিল ২১ ওভার, আর বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল মাত্র ৩ উইকেট। কিন্তু দ্রুত উইকেট তুলে নেওয়ার সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি টাইগাররা। শেষ ঘণ্টায় ক্যাচ ও রানআউটের একাধিক সুযোগ নষ্ট হওয়ায় জয় অধরাই থেকে যায়।

দিনের শুরু থেকেই আফগানিস্তানের হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন সেদিকউল্লাহ আতল। দীর্ঘ সময় উইকেটে থেকে ৩৩২ বলে ১১১ রানের ইনিংস খেলেন এই ওপেনার। ২৭৭ বল মোকাবিলা করে তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছান তিনি। এর মধ্য দিয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নিজের প্রথম সেঞ্চুরিও তুলে নেন আতল।

আতলকে সঙ্গ দেওয়া ইকরাম আলী খিল ৩৩ রান করে ইবাদত হোসেনের বলে লিটন দাসের ক্যাচে পরিণত হন। তাদের জুটিতে আসে ৬৬ রান। এরপর ৩৬ রান করা আফগান অধিনায়ক হাশমতউল্লাহ শহীদিও মেহেদী হাসান মিরাজের বলে হাসান মাহমুদের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন।

এর আগে ইসমত আলমকে ৪ রানে ফিরিয়ে আফগানিস্তানের প্রতিরোধে প্রথম আঘাত হানেন মিরাজ। তবে অন্য প্রান্তে অবিচল থেকে বাংলাদেশের বোলারদের সামলাতে থাকেন আতল। শেষ পর্যন্ত তাইজুল ইসলামের বলে শর্ট লেগে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি। রিভিউ নিয়েও নিজের উইকেট বাঁচাতে পারেননি এই ওপেনার।

আতল ফেরার পর বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। কিন্তু অষ্টম উইকেটে ইয়ামিন আহমদজাই ও কাইস আহমেদের ৪৫ রানের জুটি ম্যাচের চিত্র বদলে দেয়। ৮৫ বলে ১৯ রান করা ইয়ামিনকে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন মিরাজ। শর্ট লেগে দারুণ ক্যাচ নেন মুমিনুল হক।

এরপরও ম্যাচ শেষ করার সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ক্যাচ মিস ও রানআউটের সুযোগ হাতছাড়া করে দলটি। এমনকি শেষ দিকে স্টাম্পে বল লাগার পরও বেলস না পড়ায় ব্যাটাররা বেঁচে যান। সব মিলিয়ে শেষ মুহূর্তের ব্যর্থতায় জয়ের খুব কাছে গিয়েও হতাশ হতে হয় বাংলাদেশকে।

অন্যদিকে, কাইস আহমেদের দৃঢ় ব্যাটিংয়ে শেষ পর্যন্ত ম্যাচ বাঁচায় আফগানিস্তান। ৮০ বলে ৪৯ রানের অপরাজিত ইনিংসটি সাজাতে তিনি মারেন ৬টি চার ও ৩টি ছক্কা। জিয়া-উর-রেহমানকে সঙ্গে নিয়ে শেষ পর্যন্ত উইকেটে টিকে থেকে বাংলাদেশের জয়ের স্বপ্ন ভেঙে দেন কাইস।

এর আগে ম্যাচের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ৩৪৬ রান করে। জবাবে আফগানিস্তানকে ২৪০ রানে অলআউট করে ১০৬ রানের লিড পায় বাংলাদেশ। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে ৭ উইকেটে ৩৭২ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে টাইগাররা। এতে আফগানিস্তানের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪৭৯ রান।

বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট হাতে উজ্জ্বল ছিলেন লিটন দাস। তিনি করেন ১০২ রান। এ ছাড়া নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যাট থেকে আসে ৮২ রান এবং মুশফিকুর রহিম করেন ৮১ রান। মেহেদী হাসান মিরাজ ৫২ রানে অপরাজিত থাকেন।

আফগানিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে ইবাদত হোসেন ও মেহেদী হাসান মিরাজ ৩টি করে উইকেট নেন। তাইজুল ইসলাম শিকার করেন ১টি উইকেট। তবে বোলারদের এই প্রচেষ্টার পরও শেষ দিনে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ কাজে লাগাতে না পারায় জয় পাওয়া হয়নি বাংলাদেশের।

বিশাল লক্ষ্য দিয়েও প্রতিপক্ষকে অলআউট করতে না পারা এবং শেষ মুহূর্তে একাধিক সুযোগ নষ্ট করার আক্ষেপ নিয়েই আবুধাবি টেস্ট শেষ করল বাংলাদেশ।

এনএনবাংলা/