ঢাবি ক্যাম্পাসে শিক্ষকের ছেলের গাড়ির ধাক্কায় আহত ৭ শিক্ষার্থী

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ক্যাম্পাসে গাড়ি চালানো শেখার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে শিক্ষার্থীদের ধাক্কা দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের ছেলে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনায় সাত শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর এবং একজনের পা ভেঙে গেছে বলে জানা গেছে।
আহতদের মধ্যে ছয়জন বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং অন্যজন ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ইসলাম তাহিয়া। তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গাড়ি চালানোর সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রিকশায় থাকা এবং এফবিএস ও মলচত্বরসংলগ্ন গেটের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের ধাক্কা দেন সাদমান সাকিব। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষক ড. মো. শহিদুল ইসলামের ছেলে এবং তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
সাদমান জানান, গাড়ি চালানোর সময় সামনে বেশি মানুষ দেখে ভয় পেয়ে ব্রেক করতে গিয়ে ভুল করে অ্যাক্সিলারেটরে চাপ দেন। এতে গাড়িটি দ্রুতগতিতে ছুটে গিয়ে শিক্ষার্থীদের ধাক্কা দেয়। পরে চালকের সহায়তায় গাড়িটির গতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
আহতদের মধ্যে একজনের মুখ থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। অন্যদের শরীরেও বিভিন্ন স্থানে আঘাত লেগেছে। হাসপাতালে নেওয়ার পর তাদের জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হয়। দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা গাড়িতে থাকা দুজনকে মারধর করেন এবং গাড়িটি ভাঙচুর করেন। পরে সাদমানকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
এ বিষয়ে সাদমানের বাবা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষক ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যে সিদ্ধান্ত নেবে, তিনি তা মেনে নেবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. ইসরাফিল রতন জানান, দুর্ঘটনায় আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আল্লাহ বাঁচিয়েছেন যে কোনও বড় অ্যাক্সিডেন্ট হয় নাই।
এনএনবাংলা/
