সাম্প্রতিক
Skip to content

এক দশক পর আজ খুলছে

জুলাই স্মৃতিতে সেজেছে ওসমানী উদ্যান, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

দীর্ঘ এক দশক পর জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে রাজধানীর ওসমানী উদ্যান। প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে উদ্যান উন্নয়ন প্রকল্পে লেক, ফোয়ারা, আধুনিক লাইব্রেরি, ক্যাফেটেরিয়া, হাঁটার পথ ও শিশুদের বিনোদনকেন্দ্রসহ নানা সুবিধা রাখা হয়েছে। এছাড়া আছে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতিস্তম্ভ; যার নির্মাণ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। আজ সকাল ১০টায় আনুষ্ঠানিকভাবে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ ও উদ্যান আধুনিকায়নের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনী পর্ব শেষে সর্বসাধারণের জন্য উদ্যান খুলে দেওয়া হবে।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সম্প্রতি সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে উদ্যান আধুনিকায়ন ও জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনের কথা জানান। তিনি বলেন, ‘এদিন সুধী সমাবেশ হবে। এরপর উদ্যানটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।’ প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘উদ্যানটি এমনভাবে সাজানো হয়েছে, মানুষ যাতে সেখানে হাঁটাচলা, অবসর যাপন এবং পরিবার-পরিজন নিয়ে সময় কাটাতে পারেন।’ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) বাস্তবায়িত আধুনিকায়ন প্রকল্পের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। রোববার উদ্যান প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা গেছে, উদ্যানের পরিচর্যা, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসা যাওয়ার পথ পরিচ্ছন্ন করা হচ্ছে। উদ্যানের চারপাশের ফুটপাত সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছে।

উদ্যানের মূল ফটক হবে পুলিশ হেডকোয়ার্টারের বিপরীত পাশে। ওই ফটক দিয়ে প্রবেশ করলেই বামপাশে লেক, মাঝখানে ফোয়ারা, আধুনিক লাইব্রেরি, জিমনেশিয়াম, ক্যাফেটেরিয়া। লাইব্রেরির আগেই বামপাশ দিয়ে সিঁড়ি বেয়ে আন্ডারগ্রাউন্ডে জাদুঘরের জন্য স্থান তৈরি করা হয়েছে। উদ্যানের মাঝমাঝিতে তৈরি করা হয়েছে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ। চারদিকে পাকা করে মাঝখানে স্টিলের পাতের মাঝে জুলাই শহীদদের নাম খোদাই করা হয়েছে। এছাড়াও স্মৃতিস্তম্ভের রেলিংয়ের ভেতরের সাইটে জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন চিত্র স্থায়ীভাবে স্থাপন করা হয়েছে। স্মৃতিস্তম্ভের ঠিক সামনে আছে অনেকগুলো প্রতীকী কবর। এর পাশ দিয়েই রয়েছে ওয়াকওয়ে বা হাঁটার পথ। নতুন প্রজন্মের কাছে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের তাৎপর্য তুলে ধরতে স্মৃতিস্তম্ভটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উদ্যানটিকে সুবজময় করে তুলতে নতুন করে আরও ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ রোপণ করা হয়েছে। রাজধানীবাসী যেন নিয়মিত হাঁটতে পারে, বিশ্রাম নিতে পারে সেই উপযোগী করে উদ্যানটি সাজানো হয়েছে। উদ্যানের পুরোনো লেকটিও সংস্কার করে নতুন রূপ দেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় নগরবাসী, বিশেষ করে পুরান ঢাকা ও মতিঝিল এলাকার মানুষের জন্য উদ্যানটির ব্যবহার সীমিত হয়ে পড়েছিল। আধুনিকায়নের মাধ্যমে সবুজের এই পরিসর আবারও নগরবাসীর অবসর, শরীরচর্চা ও বিনোদনের জায়গা হয়ে উঠবে বলে মনে করেন উদ্বোধনের আগেরদিন দেখতে আসা একজন বেসরকারি চাকরিজীবী রকিকুজ্জামান মিয়া।

নগরভবন, পুলিশ হেডকোয়ার্টার, বঙ্গবাজার, গুলিস্তান ও বাংলাদেশ সচিবালয়সংলগ্ন ওসমানী উদ্যান রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সবুজ পরিসরগুলোর একটি। দীর্ঘ বিরতির পর উদ্যানটি খুলে দেওয়া হলে নগরবাসীর বিনোদন ও অবসর কাটানোর সুযোগ বাড়বে বলে মনে করেন তিনি।

এনএনবাংলা/এনজেড