সাম্প্রতিক
Skip to content

লালনের আখড়াবাড়ি থেকে টাইম বোমা উদ্ধার, বিজিবি মোতায়েন

ছবি: আখড়াবাড়ি

কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় ফকির লালন সাঁইয়ের আখড়াবাড়ি প্রাঙ্গণ থেকে একটি টাইম বোমা ও দুই বোতল পেট্রল উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল রোববার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে আখড়াবাড়ির ভেতরে একটি ব্যাগে বোমা থাকার খবর পেয়ে এলাকাটি ঘিরে ফেলে পুলিশ। আজ সোমবার সকালে ঢাকা থেকে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল এসে বোমাটি নিষ্ক্রিয় করে। এ ঘটনায় আখড়াবাড়ির নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অবস) ফয়সাল মাহমুদ। আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘রাতে কুমারখালী থানার ওসি জানতে পারেন আখড়াবাড়ির ভেতর বোমা আছে। এরপর সেটি কর্ডন করে রাখা হয়। এটা টাইম বোমা ছিল। যেকোনো সময় বিস্ফোরণ ঘটতে পারত। আল্লাহ বাঁচিয়েছেন। সকালে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল এসে সেটা নিষ্ক্রিয় করেছে। আখড়াবাড়ির নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। পুরো আখড়াবাড়ি তল্লাশি চালানো হয়েছে।’

গত শনিবার থেকে আখড়াবাড়িতে লালন শাহর তিরোধান দিবসের তিন দিনের আয়োজন চলছে। গতকাল ছিল দ্বিতীয় দিন। আজ সোমবার রাত পর্যন্ত সেখানে অনুষ্ঠান চলবে। বোমা উদ্ধারের পর সেখানে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশের নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি বিজিবির দুই প্লাটুন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। কে বা কারা, কী উদ্দেশ্যে এসব বস্তু আখড়াবাড়ি প্রাঙ্গণে রেখে গেছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল দিবাগত রাত দেড়টার দিকে আখড়াবাড়ির মূল ফটক পার হয়ে ডান দিকে একটি নারকেলগাছের নিচে সাদা ব্যাগে মোড়ানো সন্দেহজনক বস্তু পড়ে থাকতে দেখা যায়। পাশেই ছিল পুলিশ বক্স। বিষয়টি জানার পরপরই সতর্ক অবস্থান নেয় পুলিশ। নিরাপত্তার স্বার্থে রাতেই আখড়াবাড়ির ভেতরে অবস্থানরত সাধু-ফকিরদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে খবর দেওয়া হলে সকালে ঢাকা থেকে পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দলটি সন্দেহজনক ব্যাগটি তল্লাশি করে একটি টাইম বোমা ও দুই লিটার পেট্রল উদ্ধার করে। পরে বোমাটি নিষ্ক্রিয় করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুষ্টিয়া অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মিজানুর রহমান জানান, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। হয়তো কেউ আতঙ্ক ছড়াতে এমনটি করেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। দুপুর ১২টা থেকে আখড়াবাড়ি প্রবেশে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়। পুলিশের পাশাপাশি দুই প্লাটুন বিজিবি কাজ করবে। আখড়াবাড়ি প্রবেশের সবগুলো সড়ক ও মোড়ে মোড়ে তল্লাশি চলবে। পুরো আখড়াবাড়ি প্রাঙ্গণেও তল্লাশি চালানো হবে।

এনএনবাংলা/এনজেড