ঘুষের ভিডিও করায় উজিরপুরে ব্যবসায়ীকে আটকে নির্যাতন ও হত্যার হুমকি, বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ

বরিশালের উজিরপুরে ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেনের প্রমাণ সংগ্রহ ও ভিডিও ধারণ করার জেরে এক ব্যবসায়ীকে আটকে রেখে মারধর এবং হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন— উপজেলা বিএনপির দফতর সম্পাদক ও দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মাহমুদ আহমেদ ওরফে সবুজ এবং ভূমি অফিসের অস্থায়ী গাড়িচালক রাসেল মৃধা।
ভুক্তভোগী কম্পিউটার ব্যবসায়ী মিরাজ হোসেন গত শনিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) বিভিন্ন দপ্তরে এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের সঙ্গে প্রমাণ হিসেবে তিনি ভিডিও ফুটেজ ও ছয়টি স্থিরচিত্রও জমা দিয়েছেন।
অভিযোগপত্রে মিরাজ হোসেন উল্লেখ করেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে উজিরপুর উপজেলা সদরে কম্পিউটার ব্যবসা করে আসছেন। সম্প্রতি তার নিকটাত্মীয়দের জমির নামজারি ও মিউটেশনের কাজের জন্য উজিরপুর ভূমি অফিসের সার্টিফিকেট সহকারী সুরাইয়া খানমের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেন। কিন্তু এরপর কাজের অগ্রগতি জানতে গেলে তাকে বারবার ঘোরানো হয় এবং একপর্যায়ে কাজ সম্পন্ন করার জন্য টাকা দাবি করা হয়।
মিরাজের দাবি, কয়েক দফায় টাকা দেওয়ার পরও তার কাজ সম্পন্ন করা হয়নি। পরবর্তীতে নতুন সহকারী কমিশনার (ভূমি) যোগদানের পর সুরাইয়া খানমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি আবারও টাকা ছাড়া কাজ হবে না বলে জানিয়ে দেন এবং আরও বেশি টাকা দাবি করে তা অস্থায়ী গাড়িচালক রাসেল মৃধার কাছে দিতে বলেন।
মিরাজ আগের টাকা দেওয়ার প্রমাণ তার কাছে আছে বলে জানালে সুরাইয়া খানম তা দেখতে চান। পরে মিরাজ সুরাইয়ার ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপ বা মোবাইল ফোনে সেই প্রমাণ পাঠান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সুরাইয়া ও রাসেল মৃধা তাকে ডেকে হুমকি-ধমকি ও ভয়ভীতি দেখাতে থাকেন।
মিরাজের ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে মো. আজিজুল সিকদার নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে তাকে ডেকে বিএনপি নেতা সবুজের চেম্বারে নেওয়া হয়। সেখানে রাসেল মৃধা ও সবুজ তাকে দুই থেকে তিন ঘণ্টা আটকে রেখে মারধর করেন। এ সময় ধারণকৃত ঘুষের ভিডিও মুছে ফেলার জন্য চরম চাপ সৃষ্টি করা হয় এবং তাকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। পরে নিরুপায় হয়ে অভিযুক্তদের কাছে ক্ষমা চেয়ে তিনি সেখান থেকে মুক্তি পান।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ভূমি অফিসের সার্টিফিকেট সহকারী সুরাইয়া খানম বলেন, “আমার বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ হয়েছে। আমি এর লিখিত জবাব দেব। এর বেশি কিছু বলতে পারব না।”
অন্যদিকে, সব অভিযোগ অস্বীকার করে অস্থায়ী গাড়িচালক রাসেল মৃধা দাবি করেন, “আমি ওই ভিডিওতে নেই। আমাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জড়ানো হচ্ছে। মিরাজ বিভিন্ন সময়ে আমাদের অফিসে নামজারির দালালি করতে আসেন।”
এ বিষয়ে উজিরপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) উম্মে সালমা খানম জানান, একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুযায়ী প্রয়োজনীয় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলী সুজা বলেন, “অভিযোগপত্রটি আমি পেয়েছি। পুরো বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এনএনবাংলা/ইএস
