সাম্প্রতিক
Skip to content

শুক্রবারের বাজার-সদাই

নিত্যপণ্যের বাজারে মিশ্র চিত্র, পাইকারি-খুচরায় দামের বড় ফারাক

ছবি: নিউ নেশন অনলাইন

রাজধানীর পাইকারি বাজারে পেঁয়াজ, আলু ও বেশ কয়েকটি সবজির দাম কমলেও খুচরা বাজারে তার প্রভাব পড়েনি। বরং পাইকারির তুলনায় অনেক বেশি দামে এসব পণ্য কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। অন্যদিকে, রসুন, শুকনো মরিচ, শসা, আদা, কিছু চাল ও মাছের দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। গত বছরের তুলনায় আলু, শসা, লাউ ও গরুর মাংসের দামেও রয়েছে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য।

কৃষি বিপণন অধিদফতরের ২৯ অক্টোবরের বাজারদরের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর পাইকারি বাজারে দেশি পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হয়েছে ৩০ থেকে ৪২ টাকা। এক মাস আগে ছিল ৩০ থেকে ৪৮ টাকা। অথচ খুচরা বাজারে একই পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা কেজি। অর্থাৎ পাইকারি ও খুচরা বাজারে কেজিতে সর্বোচ্চ ৩০ টাকা ব্যবধান রয়েছে। গত বছরের একই সময়ে পেঁয়াজের পাইকারি দাম ছিল ৬৪ থেকে ৭৪ টাকা।

আলুর পাইকারি দামও এক মাসে কমে ১২ থেকে ১৯ টাকায় নেমেছে, যা আগের মাসে ছিল ১৫ থেকে ২১ টাকা। তবে গত বছরের একই সময়ে আলুর দাম ছিল ৮ থেকে ১২ টাকা। বর্তমানে খুচরা বাজারে আলু বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা কেজি দরে।

সবজির বাজারেও পাইকারিতে দাম কমার চিত্র দেখা গেছে। এক মাসে বেগুনের পাইকারি দাম ১০০ টাকা থেকে কমে ৫০ টাকায় নেমেছে। পটল, ঢেঁড়স ও করলার দামও কমেছে। তবে খুচরা বাজারে বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা এবং ঢেঁড়স ৮০ টাকা কেজি দরে।

সবচেয়ে বেশি চাপ রয়েছে রসুন ও শুকনো মরিচের বাজারে। দেশি রসুনের পাইকারি দাম ৫৫ থেকে ৯০ টাকা এবং আমদানি করা রসুনের দাম ১৫৫ থেকে ১৭৫ টাকা কেজি। এক মাসে আমদানি করা রসুনের সর্বোচ্চ দাম বেড়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ। খুচরা বাজারে মানভেদে রসুন বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ২০০ টাকা কেজি।

শুকনো মরিচের পাইকারি দাম বেড়ে ২২০ থেকে ৩২০ টাকা হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে এ পণ্যের দাম বেড়েছে ১০৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি শুকনো মরিচের দাম ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। আদা ও হলুদের দামও বেড়েছে। খুচরা বাজারে আদা ১২০ এবং হলুদ ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

চালের বাজারে মিশ্র প্রবণতা রয়েছে। মাঝারি মানের পাজাম, ব্রি ধান-২৮ ও ব্রি ধান-২৯ চালের পাইকারি দাম বেড়ে ৪৯ থেকে ৫৩ টাকা হয়েছে। খুচরা বাজারে ব্রি ধান-২৮ চাল বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭০ টাকা কেজি। নাজিরশাইল ও সম্পা কাটারি চালের পাইকারি দাম সামান্য কমলেও বিরই চালের দাম বেড়েছে। অন্যদিকে, ব্রি ধান-৩৪ সুগন্ধি চালের পাইকারি দাম কমে ৯৫ থেকে ১৭৫ টাকায় নেমেছে। তবে খুচরা বাজারে এ চালের দাম ২০০ থেকে ২৫০ টাকা।

ডালের বাজারেও রয়েছে দামের পার্থক্য। মোটা মুগ ডালের পাইকারি দাম বেড়ে ১৩৬ টাকা হয়েছে। খুচরা বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা কেজি। অন্যদিকে, মোটা মসুর ডালের পাইকারি দাম ৮০ টাকা হলেও খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা কেজি দরে।

ভোজ্যতেল ও চিনির পাইকারি বাজারে তেমন পরিবর্তন দেখা যায়নি। খোলা সয়াবিন তেল ১৮৩ থেকে ১৮৪ টাকা, এক লিটারের বোতলজাত সয়াবিন ২০০ থেকে ২০৩ টাকা এবং পাঁচ লিটারের বোতলজাত তেল ৯৮০ থেকে ৯৯৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। খোলা পাম তেলের দাম সামান্য কমে ১৬১ থেকে ১৬২ টাকা হয়েছে। চিনির পাইকারি দাম ১০২ টাকা হলেও খুচরা বাজারে খোলা চিনি ১২০ এবং প্যাকেটজাত চিনি ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাংসের বাজারে ব্রয়লার মুরগির পাইকারি দাম কিছুটা কমলেও সোনালি মুরগি ও খাসির মাংসের দাম বেড়েছে। ব্রয়লার মুরগি ১৪৬ থেকে ১৫৮ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩০৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। খুচরা বাজারে এ দুই ধরনের মুরগির দাম যথাক্রমে ১৭০ ও ৩৪০ টাকা।

গরুর মাংসের পাইকারি দাম কমে ৭৩০ থেকে ৭৫০ টাকা হলেও গত বছরের তুলনায় এর গড় দাম বেড়েছে ১০ দশমিক ৪৫ শতাংশ। অন্যদিকে, খাসির মাংসের পাইকারি দাম বেড়ে কেজিতে এক হাজার ২৫০ টাকা হয়েছে।

সব মিলিয়ে পাইকারি বাজারে কয়েকটি নিত্যপণ্যের দাম কমলেও খুচরা বাজারে তার সুফল পাচ্ছেন না ক্রেতারা। পণ্যের ধরন ও মানভেদে পাইকারি-খুচরা দামের বড় ব্যবধান বাজারে ভোক্তাদের বাড়তি খরচের চাপ তৈরি করছে।

এনএনবাংলা/