বাংলাদেশে জলবায়ুজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকিতে বছরে ২ হাজার ৭০ কোটি ডলারের ক্ষতি

বাংলাদেশে তাপপ্রবাহ ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে বছরে ২ হাজার ৭০ কোটি ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে। কর্মক্ষমতা হ্রাস, অকালমৃত্যু ও বিভিন্ন রোগের চিকিৎসাব্যয় বিবেচনায় এ হিসাব করেছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা নলেজ হাব ইনস্টিটিউট (কেএইচআই)। সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জলবায়ুজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়লেও তা মোকাবেলায় স্বাস্থ্য খাতের প্রস্তুতি ও সরকারি অর্থায়ন প্রয়োজনের তুলনায় কম।
রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে বুধবার প্রকাশিত ‘মাল্টি-ডাইমেনশনাল হেলথ ইমপ্যাক্টস অব ক্লাইমেট চেঞ্জ ইন বাংলাদেশ: পাথওয়েজ, কস্টস অ্যান্ড পলিসি ইমপ্লিকেশনস’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এম এ মুহিত। গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন কেএইচআইয়ের সভাপতি খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০০-এর দশকের তুলনায় চলতি দশকে দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি তাপমাত্রার দিনের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা বৃদ্ধি মানুষের শরীরের স্বাভাবিক তাপ নিয়ন্ত্রণে বাধা সৃষ্টি করছে। এতে হৃদযন্ত্র ও কিডনির ওপর চাপ বাড়ার পাশাপাশি ডেঙ্গু সংক্রমণের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। বন্যা ও দূষিত পানিও জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
কেএইচআইয়ের হিসাব অনুযায়ী, জলবায়ুজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকিতে অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ ২০২৪ সালে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৪ দশমিক ৬ শতাংশের সমান। তবে এ হিসাবে বায়ুদূষণ ও প্রাণঘাতী নয়, এমন অসুস্থতার ব্যয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ফলে প্রকৃত ক্ষতি আরও বেশি হতে পারে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে অতিরিক্ত গরমের কারণে বাংলাদেশে প্রায় ২ হাজার ৯৩০ কোটি সম্ভাব্য কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়েছে। হারানো কর্মঘণ্টার আর্থিক মূল্য প্রায় ১ হাজার ৫৮০ কোটি ডলার। এর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ কর্মঘণ্টা হারিয়েছেন কৃষক ও কৃষিশ্রমিকরা। নির্মাণশ্রমিকসহ শারীরিক পরিশ্রমনির্ভর পেশার মানুষও এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
কেএইচআইয়ের সভাপতি খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম জলবায়ুজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবেলায় বিভিন্ন খাতের জন্য তাপ থেকে সুরক্ষার নির্দেশিকা, জেলা পর্যায়ে কর্মপরিকল্পনা এবং স্বাস্থ্য খাতে কার্যকর বাজেট ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত অর্থায়ন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এম এ মুহিত বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন জনস্বাস্থ্যে বহুমুখী প্রভাব ফেলছে। এ ঝুঁকি মোকাবেলায় আবহাওয়া অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে কার্যকর আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, গবেষণা বাড়ানো এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। কপ-৩১ সম্মেলনেও জলবায়ু ন্যায়বিচার ও বাড়তি অর্থায়নের বিষয়টি গুরুত্ব পাওয়া উচিত।
এনএনবাংলা/
