ঋণখেলাপির পর ব্যাংক খাতে শুরু হয় ‘লুটপাটের সংস্কৃতি’: ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ

দেশের ব্যাংক খাতে ঋণখেলাপির পর লুটপাটের সংস্কৃতি শুরু হয়, যা ঋণখেলাপির চেয়েও ভয়াবহ বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) ঢাকার মিরপুরে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) দুই দিনব্যাপী সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, একসময় নানা নিয়মকানুন ও সংস্কারের মাধ্যমে ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা হয়েছিল। তবে ২০১০ সালের পর নতুন করে ব্যাংক লুটপাটের সংস্কৃতি গড়ে ওঠে। কোনো নিয়মকানুন ছাড়াই ব্যাংক থেকে টাকা লুট করে নেওয়া হয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সম্মেলনে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সভাপতি ও ঢাকা ব্যাংকের চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার বলেন, বর্তমানে ২০টি ব্যাংক সঠিক পথে রয়েছে, বাকিগুলো খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। তাঁর দাবি, ব্যাংক খাতের মোট খেলাপি ঋণের ৮০ শতাংশই ইচ্ছাকৃত।
অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন বলেন, শেখ হাসিনার আমলে খেলাপি ঋণের হার ৯ শতাংশ বলা হলেও প্রকৃত হার ছিল ৩০ শতাংশের বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুনে খেলাপি ঋণের হার ছিল ১০ দশমিক ৫৭ শতাংশ।
পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআরআই) চেয়ারম্যান জাইদি সাত্তার মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, রাজস্ব শৃঙ্খলা, নমনীয় বিনিময় হার এবং শুল্ক কমানোর মতো সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দেন।
বিআইবিএমের মহাপরিচালক এজাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর কবির আহাম্মদ ও বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানবিষয়ক বিভাগীয় পরিচালক জ্যঁ পেসমে বক্তব্য দেন।
এনএনবাংলা/
