নিজ কার্যালয়ে মারধরের শিকার আইইডিসিআরের পরিচালক

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকিকে তাঁর নিজ কার্যালয়ের কক্ষে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। সিসিটিভি ফুটেজেও পরিচালকের কক্ষে একদল ব্যক্তির প্রবেশ এবং তাঁকে মারধরের দৃশ্য দেখা গেছে।
মারধরের বিষয়টি গণমাধ্যমের কাছে নিশ্চিত করেছেন অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকি নিজেই। তবে ঘটনার পরপরই এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে পারেননি তিনি। অধ্যাপক জাকি বলেন, ‘আমি এখন ব্যাখ্যা করে বলার মতো অবস্থায় নেই। পরে আপনাদের বিস্তারিত জানাব।’
ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, পরিচালক কাজী আহমেদ জাকি নিজের অফিসকক্ষে বসে আছেন। ওই সময় কক্ষে তাঁর সঙ্গে অন্তত ১০ জন ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যেই ৮ থেকে ১০ জনের একটি দল কক্ষে প্রবেশ করে। তাঁদের একজন প্রথমে চেয়ারসহ পরিচালককে তাঁর বসার স্থান থেকে সরিয়ে আনেন। পরে একাধিক ব্যক্তি তাঁকে মারধর করেন।
হামলার সময় পরিচালকের কক্ষে উপস্থিত ছিলেন এমন এক জনস্বাস্থ্যবিদ নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণমাধ্যমকে জানান, হামলায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের তিনি এর আগে কখনো আইইডিসিআরে দেখেননি।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও জনস্বাস্থ্যবিদ মুশতাক হোসেন। তিনি বলেন, একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানের পরিচালককে তাঁর নিজ কক্ষে মারধরের ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির আওতায় আনা প্রয়োজন।
১৯৭৬ সালে জাতীয় সংসদে বিল পাসের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় আইইডিসিআর। প্রতিষ্ঠার সময় দেশের কেন্দ্রীয় ম্যালেরিয়া ইনস্টিটিউটকে এর সঙ্গে একীভূত করা হয়। দেশে বিভিন্ন রোগের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, গবেষণা পরিচালনা এবং জনস্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে আগাম সতর্কবার্তা দেওয়াসহ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে প্রতিষ্ঠানটি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গেও সমন্বিতভাবে কাজ করে আইইডিসিআর।
বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আইইডিসিআরের পরিচালক পদে অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকিকে নিয়োগ দেয়। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ কাজী আহমেদ সম্প্রতি হামের টিকার কার্যকারিতা নিয়ে গবেষণা পরিচালনা করেছেন।
এনএনবাংলা/
