বন্ধ হয়ে গেল ঢাকার দুই দশকের পুরোনো কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি

রাজধানীর শান্তিনগর-কাকরাইল মোড়ের পরিচিত শপিং কমপ্লেক্স কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি বন্ধ হয়ে গেছে।
ব্যবসায়িক মন্দা, ক্রেতাসংকট ও বিপুল পরিমাণ বকেয়া বিলের কারণে গত ১ অক্টোবর থেকে মার্কেটটি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মালিক সমিতি। প্রায় দুই দশক ধরে চালু থাকা এই শপিং কমপ্লেক্সটি আর খোলার পরিকল্পনা নেই। বরং শপিং কমপ্লেক্স ভবনের অংশটুকু বিক্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মালিকেরা।
শপিং কমপ্লেক্সটির মূল ফটকে এখন ঝুলছে বন্ধের নোটিশ। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘১/১০/২০২৬ ইং তারিখ হতে শপিং কমপ্লেক্স বন্ধ থাকিবে।’ তবে ভবনের আবাসিক অংশ আগের মতোই চালু থাকবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ১৯৯৮ সালে কর্ণফুলী গ্রুপের হাত ধরে যাত্রা শুরু করে ২০ তলা ভবনটি। ভবনটির নিচতলা থেকে তৃতীয় তলা পর্যন্ত ছিল শপিং মল। চতুর্থ তলায় ছিল ফুড কোর্ট ও বাগান। শুরুর দিকে মার্কেটটিতে দোকানের সংখ্যা ছিল ১৯৮টি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে ব্যবসায়িক কার্যক্রম কমতে থাকায় একপর্যায়ে অধিকাংশ দোকান বন্ধ হয়ে যায়।
মার্কেটটি বন্ধের সময় ভেতরে মাত্র ১৭টি দোকান চালু ছিল। বাইরের রেস্তোরাঁসহ সব মিলিয়ে চালু প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ২৫টি। ক্রেতাসংকট ও ব্যবসায়িক মন্দার কারণে লোকসানের চাপ বাড়তে থাকায় শেষ পর্যন্ত মার্কেটটি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি বন্ধের কারণ ব্যাখ্যা করে মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাকি বিল্লাহ ওসমানী আনন্দ শাহ বলেন, এক দিনে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি। গত এক দশকের অব্যবস্থাপনা, দেশের অর্থনৈতিক মন্দা এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম কমে যাওয়ার সম্মিলিত প্রভাব পড়েছে মার্কেটটির ওপর।
দীর্ঘদিনের পরিচিত শপিং কমপ্লেক্সটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন আনন্দ শাহ। তিনি বলেন, ‘আমার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। কারণ আমার বাচ্চারা এখানে এসে শপিং করত। তারা বলত, এখানে আমার বাবার দোকান আছে, আমার বাবা মার্কেটের মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক। আমি নিজেও বিষয়টি অনুভব করতাম। কিন্তু এখন আমিও সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন, এই সিদ্ধান্তে প্রত্যেক মালিকই কষ্ট পাচ্ছেন। কিন্তু প্রতিদিন যে পরিমাণ লোকসান হচ্ছে, তা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ না থাকায় মার্কেট বন্ধ করা ছাড়া তাদের সামনে আর কোনো বিকল্প ছিল না।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শপিং কমপ্লেক্স বন্ধের সিদ্ধান্ত শুধু বাণিজ্যিক অংশের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে। ভবনের আবাসিক অংশ চালু থাকবে।
এনএনবাংলা/
