ঢাকার বাইরে শুটিংয়ে তৌসিফ থাকলেই অনুমতি দিত ফারিয়ার পরিবার

শোবিজে বন্ধুত্বের সম্পর্ক অনেক সময় কাজের গণ্ডি ছাড়িয়ে হয়ে ওঠে পরিবারের মতো আপন। অভিনেতা তৌসিফ মাহবুব ও শবনম ফারিয়ার বন্ধুত্ব যেন তারই এক উজ্জ্বল উদাহরণ। ঢাকার বাইরে শুটিং করতে গেলে যেখানে পরিবারের কাছ থেকে অনুমতি পেতেন না ফারিয়া, সেখানে সঙ্গে তৌসিফ থাকলেই মিলত ছাড়পত্র। বন্ধুর প্রতি আস্থা ও নির্ভরতার এমনই এক অজানা গল্প জন্মদিনে প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী।
আজ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) তৌসিফ মাহবুবের জন্মদিন। এ উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে বন্ধুর দায়িত্বশীলতা, বিশ্বস্ততা ও মানবিক গুণের কথা তুলে ধরেছেন শবনম ফারিয়া।
ফারিয়া জানান, অভিনয়জীবনের শুরুতে বাসা থেকে ঢাকার বাইরে শুটিংয়ে যাওয়ার অনুমতি পেতেন না তিনি। শুটিং শেষ করে ফিরতে রাত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় পরিবারের পক্ষ থেকে এ নিষেধাজ্ঞা ছিল। তবে শুটিংয়ে তৌসিফ থাকলে পরিস্থিতি বদলে যেত। এমনকি দেশের বাইরে তাঁর প্রথম শুটিংয়ের অনুমতিও পেয়েছিলেন তৌসিফ মাহবুব ও সিয়াম আহমেদ সঙ্গে থাকায়।
ফেসবুক পোস্টে ফারিয়া লেখেন, ‘অভিনয় শুরু করার পর, বাসা থেকে ঢাকার বাইরে আমার শুটিংয়ের পারমিশন ছিল না, ফিরতে রাত হতো, তাই। শুধু তৌসিফ থাকলে আমি পারমিশন পেতাম। এমনকি দেশের বাইরেও আমার প্রথম শুটিংয়ের পারমিশন পেয়েছিলাম তৌসিফ আর সিয়াম ছিল তাই। ওই বয়সেই তৌসিফ কতটা দায়িত্বশীল হলে আম্মু ওকে আমার গার্ডিয়ান বানিয়ে দিয়েছিল!’
তৌসিফের দায়িত্বশীলতা শুধু বন্ধুত্বের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় বলেও উল্লেখ করেছেন ফারিয়া। তাঁর ভাষ্য, শোবিজের অনেকেই এখন তৌসিফকে অভিভাবকের মতো মনে করেন। কেউ বিপদে পড়লে সবার আগে এগিয়ে আসেন তিনি। আবার কারও আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন হলেও তৌসিফের কাছে সাহায্য চাওয়ার ভরসা পান অনেকে।
বন্ধুর প্রশংসা করে ফারিয়া লেখেন, ‘তৌসিফ এখন মিডিয়ার অনেকের গার্ডিয়ান। অনেকের কাছে শুনি, বিপদে পড়লে সবার আগে এগিয়ে আসে তৌসিফ; কারো টাকার দরকার হলেও সবাই জানে তৌসিফকে কল করলে, সে তার যথাসাধ্য চেষ্টা করে সাহায্য করতে। তৌসিফ হয়তো আরো অনেক বড় অভিনেতা হবে, কিন্তু ব্যক্তি তৌসিফ অলরেডি অনেক বড় হয়ে গেছে।’
তৌসিফের পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনের সাফল্য নিয়েও আনন্দ প্রকাশ করেছেন ফারিয়া। নির্মাতাদের আস্থা অর্জন, দর্শকদের ভালোবাসা পাওয়া, স্ত্রী জারার সঙ্গে সুন্দর দাম্পত্য এবং বাবা-মায়ের যোগ্য সন্তান হয়ে ওঠার পাশাপাশি বন্ধুদের ভালোবাসাকেও তৌসিফের বড় প্রাপ্তি হিসেবে দেখছেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে ফারিয়া লেখেন, ‘তৌসিফ নির্মাতাদের ভরসার জায়গা পেয়েছে, দর্শকদের ভালোবাসা পেয়েছে, জারার মতো লক্ষী বউ পেয়েছে, বাবা-মার যোগ্য ছেলে হয়েছে, আর পেয়েছে আমাদের মতো বন্ধু!’
জন্মদিনের শুভেচ্ছাবার্তার জবাবেও বন্ধুর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন তৌসিফ। ফারিয়ার পোস্টে মন্তব্য করে তিনি লেখেন, ‘আর পেয়েছি তোমার মতো বন্ধু! যে আমার প্রতিটা পদক্ষেপে, আমার প্রতিটা ঠিক-ভুলে পাশে থাকে, আমাকে বোঝে, সাহস জোগায়। জীবনে এমন একজন বন্ধু থাকাটাও যে কত বড় পাওয়া, তা হয়তো বলে বোঝানো যায় না। থ্যাঙ্ক ইউ, আন্টিকে সালাম দিয়ো।’
তৌসিফ ও ফারিয়ার এই কথোপকথন আবারও তুলে ধরেছে শোবিজের ব্যস্ত জীবনের আড়ালে থাকা তাঁদের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব, পারস্পরিক আস্থা ও নির্ভরতার গল্প।
এনএনবাংলা/
