সাম্প্রতিক
বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক নতুন করে তৈরি হবে: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মার্কিন ভিসা নিয়ে দুঃসংবাদ, পৌনে ২ লাখ ভিসা বাতিল করল যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ভয়ে তুরস্ক ছাড়ার সময় বিমান বদলেছিলেন ট্রাম্প একাত্তর টিভির চেয়ারম্যান-সিওওসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে সমন সপ্তাহে একদিন শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রি থাকবে জুলাই জাদুঘর গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, নির্বাচন কমিশনে যাচ্ছে সংসদ সচিবালয়ের চিঠি সৌরভ ও ডোনাকে হত্যার হুমকি, কলকাতা পুলিশের তদন্ত শুরু বাংলাদেশি কৃষককে ধরে নিয়ে গেল বিএসএফ, পাল্টা দুই ভারতীয় কৃষককে আটক গ্রামবাসীর বেসরকারি খাতকে জ্বালানি তেল আমদানির সুযোগ দেবে সরকার
Skip to content

কুয়াকাটায় ঈদের ছুটির পর সাপ্তাহিক ছুটিতে পর্যটকদের উল্লাস 

জেলা প্রতিনিধি, পটুয়াখালী (কলাপাড়া) :

কুয়াকাটার নাম শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে চির সবুজ প্রাকৃতিক দৃশ্য। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী আদিবাসী রাখাইন পাড়া। লাল কাকড়ার অবাধ বিচরনে সৈকতে ফুটে ওঠা আল্পনা। পাখির কলোকাকলী। সারিসারি ঝিনুক। বিশাল সমুদ্রের ঢেউয়ের গর্জন। অপরূপ সৌন্দর্য যেন বিমোহিত করেছে ভ্রমন পিপাসু প্রকৃতি প্রেমীদের। পর্যটকদের কাছে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত “সাগর কন্যা” হিসেবে পরিচিত। রয়েছে ১৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য সৈকত। দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র সৈকত যেখান থেকে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত দুটোই দেখা যায়। তাই পর্যটকরা বারবার ছুটে আসেন।

স্থানীয়রা জানায়, ঈদের ছুটির পর সাপ্তাহিক ছুটি শুক্র ও শনিবার হাজারো নানা বয়সের দেশি বিদেশি পর্যটক সমুদ্রের ঢেউয়ের তালে নেচে গেয়ে উল্লাসে মেতেছে। অনেকে সৈকতের বালিয়াড়িতে হৈহুল্লোর, খেলাধুলা ও ঘোড়াঘুড়ি করছে। কেউ বালু দিয়ে পিরামিড তৈরি সহ নিজেদের বন্দী করছেন ক্যামেরার ফ্রেমে। দর্শনীয় স্পটগুলোতে পর্যটকদের উচ্ছাসিত উপস্থিতি চোখে পড়ার মত। অধিকাংশ হোটেল মোটেল রয়েছে বুকিং। বাড়তি পর্যটকদের আনাগোনায় প্রানচাঞ্চল্যতা ফিরে এসেছে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে।

এদিকে এসব পর্যটক সমুদ্র দর্শনের পাশাপাশি রাখাইন পল্লী, রাখাইন মার্কেট, শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধ বিহার, মিশ্রিপাড়া সীমা বৌদ্ধ মন্দির, ঝাউবাগান, গঙ্গামতির লেক, লাল কাকড়ার চর, লেম্বুর বন, আন্ধার মানিক নদী মোহনা, ফাতরার বনসহ দর্শনীয় স্পটগুলো ঘুরে বেড়াচ্ছেন। পর্যটকদের ঝিনুক মার্কেট,ফিশ ফ্রাই ও খাবার হোটেলসহ পর্যটন নির্ভর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গুলোতে বেচাকেনার যেন ধুম পরে গেছে।

পর্যটক নাহিদুল আলম জানান, এখানকার প্রকৃতি ও পরিবেশ খুবই ভালো। তাই পরিবার পরিজন নিয়ে বার বার কুয়াকাটায় ছুটে আসি। বেশ আনন্দ উল্লাস করেছি। সবক’টি পর্যটন স্পট ঘুরে দেখেছি।

অপর পর্যটক রিয়াজ রহমান বলেন, সে ঢাকার একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত রয়েছেন। মাত্র ৫ ঘন্টায় তার বন্ধুদের নিয়ে কুয়াকাটায় আসেন। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তাদেরকে বিমোহিত করেছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

কুয়াকাটা ট্যুরিজম ম্যানেজমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের কুটুম’র সাধারণ সম্পাদক হোসাইন আমির বলেন, পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর কুয়াকাটায় প্রচুর সংখ্যক পর্যটকের ভিড় লক্ষ করা যাচ্ছে। সৈকতের এ স্থানে দাঁড়িয়েই সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত উপভোগ করা যায়। এখানে রয়েছে প্রকৃতি ঘেরা সৌন্দর্য। যোগাযোগ ব্যাবস্থা উন্নতি হওয়ায় ঢাকা থেকে আসতে সময়ও কম লাগে। তাই ভ্রমণ পিপাসুরা কুয়াকাটা সৈকত বেছে নিয়েছে।

হোটেল মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি মো.শাহ আলম বলেন, আবাসিক হোটেল মোটেল রিসোর্ট গুলোতে আশাতীত বুকিং রয়েছে। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর সাপ্তাহিক ছুটিসহ সরকারি ছুটির দিনগুলোতে পর্যটকদের আগমন বেশি হচ্ছে। তবে অবকাঠামগত উন্নয়ন হওয়ায় এখন কোন পর্যটকদের রুম সংকটে পরতে হয় না।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোনের ইনচার্জ হাসনাইন পারভেজ বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে ট্যুরিস্ট পুলিশ সহ অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। এছাড়া দর্শনীয় স্পটগুলোতে ভ্রাম্যমাণ টিমও রয়েছে।