শেখ হাসিনার সাবেক সামরিক উপদেষ্টা তারিক সিদ্দিককে দুদকে তলব

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল সম্প্রসারণ প্রকল্প থেকে ২৫০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক সামরিক উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল তারিক আহমেদ সিদ্দিককে তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদকের পাঠানো নোটিশ অনুযায়ী, আগামী ৭ অক্টোবর সকাল ১০টায় সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে তাকে বক্তব্য দিতে হবে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও দুদকের সহকারী পরিচালক মাহমুদুল হাসান শুভ্র মঙ্গলবার এ তলব নোটিশ জারি করেন।
দুদকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তারিক সিদ্দিককে তার ঠিকানায় পাওয়া যায়নি। এমনকি তার অধীনস্থ কাউকেও সেখানে পাওয়া না যাওয়ায় মঙ্গলবার দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে একজন নিরাপত্তাকর্মীর উপস্থিতিতে নোটিশটি বাসার সামনে লটকিয়ে জারি করা হয়।
দুদক জানিয়েছে, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ১৯ ধারা এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬০ ধারার আওতায় তার বক্তব্য ‘শ্রবণ ও গ্রহণের’ জন্য এ নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১-এর ৮৩ নম্বর মামলায় তার বক্তব্য নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।
মামলাটি করা হয় ২০২৫ সালের ২৭ জানুয়ারি। এজাহারে অভিযোগ করা হয়, তারিক আহমেদ সিদ্দিকসহ অন্য আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্প থেকে ২৫০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
দুদকের দাবি, তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্পের কার্যাদেশ এভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়াম (এডিসি) পেলেও পরে অ্যারোনেস ইন্টারন্যাশনালকে বেআইনিভাবে সাব-কন্ট্রাক্টর হিসেবে যুক্ত করা হয়। একই সঙ্গে প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ১৩ হাজার কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২১ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এই মামলায় মোট ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সাবেক জ্যেষ্ঠ সচিব মুহিবুল হক, সাবেক যুগ্ম সচিব জনেন্দ্রনাথ সরকার, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান এম মফিদুর রহমান, সাবেক প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল মালেক, সুপারিনটেনডেন্ট হাবিবুর রহমান, অ্যারোনেস ইন্টারন্যাশনালের মালিক লুৎফুল্লাহ মাজেদ, এমডি মাহবুব আনাম, প্রকল্প পরিচালক এ কে এম মাকসুদুল ইসলাম এবং সাবেক প্রধান প্রকৌশলী সুধেন্দু বিকাশ গোস্বামী।
একই দিনে দেশের তিন বিমানবন্দরের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প থেকে মোট ৮১২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তারিক সিদ্দিকসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে চারটি পৃথক মামলা করেছিল দুদক। এর মধ্যে শাহজালাল বিমানবন্দরের সিএনএস-এটিএম ও রেডার স্থাপন প্রকল্পে ২০০ কোটি টাকা, কক্সবাজার বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পে ১৫০ কোটি টাকা এবং সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি প্রকল্পে ২১২ কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।
পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১৭ জুলাই তারিক সিদ্দিক, তার স্ত্রী ও দুই মেয়ের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আরও চারটি মামলা করে দুদক। তার বিরুদ্ধে ২৮ কোটি ৫৯ লাখ টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং চারটি ব্যাংক হিসাবে ৬২ কোটি টাকার বেশি সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগ আনা হয়।
২০০৯ সাল থেকে শেখ হাসিনার সামরিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা তারিক আহমেদ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে গত ৫ অগাস্ট সরকারের পতনের পর দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়। এছাড়া গুমসংক্রান্ত মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্তদের তালিকায়ও তার নাম রয়েছে।
এনএনবাংলা/
