ফুডপান্ডার এমডিসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

প্রতারণা, জাল-জালিয়াতি ও প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা দুই মামলায় ফুডপান্ডা বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দা আমবারীন রেজাসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এ আদেশ দেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী কাজী মফিজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পরোয়ানা জারি হওয়া অন্য আসামিরা হলেন ফুডপান্ডার কো-ফাউন্ডার ও ডিরেক্টর জুবায়ের সিদ্দিকী, হেড অব ক্যাটাগরি দিলারা ফারুক, ডিরেক্টর ডেলিভারি মো. তাবারেজ খান (ভারতীয় নাগরিক) এবং সিনিয়র ম্যানেজার ও ডিরেক্টর মোহাম্মদ সাজেদুল হক।
আইনজীবী জানান, আদালতের নির্দেশে গুলশান থানা পুলিশ মামলা দুটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করে। তদন্ত প্রতিবেদনে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়। পরে আদালত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
যেভাবে শুরু হয় বিরোধ
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ‘প্রোটিন অ্যান্ড পেরিশেবল’ (পিএনপি) প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী শিহাব মাহমুদ বশির বাদী হয়ে গত বছরের ৩ জুলাই আদালতে মামলা দুটি করেন।
বাদীর অভিযোগ, ২০২২ সালের ২৩ জুন ফুডপান্ডার সহযোগী প্রতিষ্ঠান পান্ডামার্টের সঙ্গে চুক্তির পর তিনি দেশীয় ও আমদানীকৃত ফলমূল এবং সবজি সরবরাহ শুরু করেন। শুরুতে নিয়মিত অর্থ পরিশোধ করা হলেও পরবর্তীতে আসামিরা জালিয়াতির আশ্রয় নেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, বাদীর ১ লাখ টাকার কেনাকাটার অর্ডারের বিপরীতে ব্যাংক হিসাবে মাত্র ১ থেকে ১০০ টাকার মতো অর্থ জমা দেওয়া হতো। এ ছাড়া ভুয়া ব্যক্তিদের স্বাক্ষর ব্যবহার এবং একই দিনে একাধিক স্থানে ভুয়া ‘রিটার্ন টু ভেন্ডর’ (আরটিভি) স্লিপ তৈরি করে পণ্য ফেরত দেখানোর মাধ্যমে অর্থ আটকে রাখা হয়। এভাবে প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানের দাবি, এটি ব্যবসায়িক বিরোধ
অভিযোগের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কর্মীদের বিরুদ্ধে করা ফৌজদারি মামলাগুলো মূলত একটি ব্যবসায়িক বা বাণিজ্যিক বিরোধের কারণে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, বশির নিজের দায় এড়ানো, প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাদের হয়রানি এবং প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে প্রতিশোধমূলক কৌশল হিসেবে এসব মামলা করেছেন।
তাদের আরও দাবি, চারটি মামলারই তদন্ত করেছে একই থানার পুলিশ। তদন্ত শেষে দেওয়া দুটি প্রতিবেদনে কর্মীদের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অপরাধের সূত্র পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্যে অভিযোগকারী পক্ষের কাছ থেকে ডিএইচ স্টোরসের অর্থ পাওনা রয়েছে বলেও প্রতীয়মান হয়েছে বলে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়।
একটি আইনমান্যকারী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ডেলিভারি হিরো স্টোরস বাংলাদেশে প্রচলিত আইন, বিচার ব্যবস্থা এবং সব ধরনের আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল বলেও জানানো হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি আশা করছে, চলমান বিরোধের ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সম্পূর্ণ সত্য উদঘাটন ও সঠিক বিচার নিশ্চিত হবে।
এনএনবাংলা/
