Skip to content

হাওরে ধান কাটার মৌসুমে বন্যার আশঙ্কা, ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস

দেশের হাওরাঞ্চলে যখন বোরো ধান কাটার মৌসুম পুরোদমে চলছে, ঠিক সেই সময়েই আকস্মিক বন্যার আশঙ্কার কথা জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। এতে কৃষকদের মধ্যে ধান সংগ্রহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগামী তিনদিন দেশে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। একইসঙ্গে দেশের উজানেও ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় হাওর অববাহিকায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, নেত্রকোনা জেলার ভুগাই-কংস নদীর পানি সমতল ইতোমধ্যে বৃদ্ধি পেয়েছে, যদিও তা এখনো প্রাক-মৌসুমি বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর অববাহিকা ও উজানে মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাত হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর ও বৈশ্বিক সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, আগামী তিনদিন হাওরাঞ্চলে দিনে ৪৪-৮৮ মিলিমিটার পর্যন্ত ভারি এবং ৮৮ মিলিমিটারের বেশি অতিভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে।

এছাড়া সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার সুরমা-কুশিয়ারা নদী এবং মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার মনু ও খোয়াই নদীর পানি বাড়তে পারে। তৃতীয় দিনে এসব নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে, ফলে সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

একইভাবে ধনু-বাউলাই, ভুগাই ও কংস নদীর পানিও বাড়তে পারে। নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ জেলার নদীগুলোতে তৃতীয় দিনে পানি দ্রুত বেড়ে সতর্কসীমায় পৌঁছানোর আশঙ্কা করা হচ্ছে।

দেশের সুনামগঞ্জ, সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া—এই সাত জেলায় হাওর বিস্তৃত। এর মধ্যে সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোনায় সবচেয়ে বেশি হাওর রয়েছে।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন জেলায় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। কুমিল্লা ও নরসিংদীতে ৮০ মিলিমিটার, শেরপুর-সিলেটে ৬৬ মিলিমিটার, শ্রীমঙ্গলে ৬৫ মিলিমিটার, কমলগঞ্জে ৬০ মিলিমিটার, ইটাখোলায় ৫৭ মিলিমিটার, দুর্গাপুরে ৫১ মিলিমিটার, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৫৩ মিলিমিটার, নাকুয়াগাঁওয়ে ৫০ মিলিমিটার এবং জারিয়া ঝাঞ্জাইলে ৪৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতোমধ্যে প্রশাসন সক্রিয় হয়েছে। বন্যা ও হাওরের ধান রক্ষায় করণীয় নির্ধারণে সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের নিয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার। এতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব রফিকুল ই মোহামেদসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে, বন্যার পূর্বাভাসের পর সুনামগঞ্জ জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রশাসন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, পানি উন্নয়ন বোর্ড, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও বিজিবির প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সভায় জানানো হয়, কিছু হাওরে ইতোমধ্যে ৫০-৬০ শতাংশ ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে এবং তাহিরপুর উপজেলার হাওরগুলোতে প্রায় ৮০ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। দ্রুত ধান কাটার জন্য কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হলে খাদ্য সংকট মোকাবিলায় শুকনা খাবার ও ওষুধসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী মজুদ রয়েছে। পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

এনএনবাংলা/