২০১৮ সালে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহত যাত্রীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দিয়েছে নেপালের কাঠমান্ডু জেলা আদালত।
গত মঙ্গলবার বিচারক দিবাকর ভট্টের আদালত এই রায় দেন। নেপালের সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্ট এক খবরে এ তথ্য জানিয়েছে।
আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, বিমা কোম্পানি থেকে প্রতি পরিবারকে ২০ হাজার ডলার করে যেসব ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর বাইরে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসকে মোট ২৭ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার (নেপালি মুদ্রায় যা প্রায় ৩৭ কোটি ৮৬ লাখ রুপি) পরিশোধ করতে হবে। এই অর্থ ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়া হবে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ১৭টি পরিবারকে।
কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেপালের ইতিহাসে এটিকে এক যুগান্তকারী রায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ এত বড় পরিমাণ ক্ষতিপূরণ আগে কখনো নির্ধারিত হয়নি এবং উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের ঘটনায় এর আগে কোনো এয়ারলাইন কর্তৃপক্ষকেও দায়ী বলে চূড়ান্ত রায় দেওয়া হয়নি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইউএস-বাংলা এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার অধিকার রাখে। এই রায়ের ফলে ভবিষ্যতে ইচ্ছাকৃত অবহেলা বা গুরুতর দায়িত্বজ্ঞানহীনতার প্রমাণ পাওয়া গেলে যাত্রী বা তাদের পরিবার আদালতের শরণাপন্ন হয়ে ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে, নেপালের আদালতে এমন কোনো রায় আদৌ প্রদান করা হইয়েছে কি-না, সে ব্যাপারে নিশ্চিত নয় এয়ারলাইনসটি।
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে একটি আদালতের রায় হয়েছে বলে যে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, সে বিষয়ে তারা এয়ারলাইন্স এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বা আদালতের রায় সংক্রান্ত তথ্য পায়নি।
তারা জানিয়েছে, আমাদের লিগ্যাল টিম বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিষয়টি যাচাই করছে। যদি এমন কোনো রায় থেকে থাকে, তা আইনগতভাবে বিশ্লেষণ করে যথাযথ সময়ে গণমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট মহলকে জানানো হবে।
আদালতের কোনো নিশ্চিত তথ্য বা রায়ের অনুলিপি ছাড়া আন্তর্জাতিক কোন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রচার থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স।
এর আগে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের পক্ষে মহাব্যবস্থাপক-জনসংযোগ মো. কামরুল ইসলাম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, সম্প্রতি নেপালের কোনো আদালতে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিরূদ্ধে কোনো ধরনের রায় প্রদান করে নাই। কাঠমান্ডু পোস্টের এ ধরনের প্রতিবেদন সম্পূর্ণ মিথ্যা ও কল্পনা প্রসূত।
এনএনবাংলা/আরএম


আরও পড়ুন
২০০৯ সালের পর জন্মগ্রহণকারীদের ধূমপান নিষিদ্ধ, আইন করছে যুক্তরাজ্য
তিন বছরে ৪০০ পোশাক কারখানা বন্ধ, আরও বহু ঝুঁকিতে: বিজিএমইএ
মাথাপিছু আয়ে ভারতকে ছাড়িয়ে যেতে পারে বাংলাদেশ: আইএমএফ