দুর্নীতির মামলায় সাংবাদিক আনিস আলমগীরের জামিন মেলেনি
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় সাংবাদিক আনিস আলমগীরের জামিন আবেদন নাকচ করেছেন আদালত। রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
আনিস আলমগীরের আইনজীবী তাসলিমা জাহান পপি বলেন, আমরা জামিনের আবেদন করেছিলাম, কিন্তু আদালত তা নামঞ্জুর করেছেন। এখন আমরা আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব—উচ্চ আদালতে যাব, নাকি এখানেই আবার জামিন আবেদন করব।
এর আগে গত ৫ মার্চ ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানায় করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় হাই কোর্ট থেকে জামিন পান আনিস আলমগীর। বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের হাই কোর্ট বেঞ্চ তার জামিন মঞ্জুর করেন। তবে দুদকের আরেক মামলায় গ্রেপ্তার থাকায় তিনি মুক্তি পাননি।
গত ১৪ ডিসেম্বর রাতে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে আনিস আলমগীরকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যায়। পরে ‘জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্স’ নামে একটি সংগঠনের সদস্য আরিয়ান আহমেদ রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা নষ্টের ষড়যন্ত্র ও নিষিদ্ধ সংগঠনকে উসকে দেওয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন। এ মামলায় আরও আসামি করা হয় অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন, ফ্যাশন মডেল মারিয়া কিসপট্টা এবং উপস্থাপক ইমতু রাতিশ ইমতিয়াজকে।
মামলায় আনিস আলমগীরের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয় এবং রিমান্ড শেষে ২০ ডিসেম্বর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারেই আছেন। সর্বশেষ ২২ জানুয়ারি ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করলে আইনজীবীরা হাই কোর্টে আবেদন করেন।
এদিকে গত ১৫ জানুয়ারি অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে আলাদা মামলা করে দুদক। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক আখতারুজ্জামান ২৫ জানুয়ারি তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। শুনানি শেষে ২৮ জানুয়ারি আদালত তাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, আনিস আলমগীরের নামে ২৫ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদ এবং ৩ কোটি ৮৪ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮৯ টাকার অস্থাবর সম্পদসহ মোট ৪ কোটি ৯ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮৯ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয়সহ মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ কোটি ২৫ লাখ ৫৮ হাজার ৭৮৯ টাকা।
অন্যদিকে বৈধ উৎস থেকে তার মোট আয় দেখানো হয়েছে ৯৯ লাখ ৯ হাজার ৮৫১ টাকা। ফলে ঘোষিত আয়ের তুলনায় ৩ কোটি ২৬ লাখ ৪৮ হাজার ৯৩৮ টাকার সম্পদ বেশি পাওয়া গেছে, যা জ্ঞাত আয় বহির্ভূত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
দৈনিক আজকের কাগজসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে কাজ করা আনিসুর রহমান আলমগীর—আনিস আলমগীর নামেই বেশি পরিচিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন শিক্ষক এই সাংবাদিক টেলিভিশনের টকশোতে সমসাময়িক রাজনীতি নিয়ে বক্তব্য এবং ফেসবুক পোস্টের কারণে প্রায়ই আলোচনায় থাকতেন।
তার স্ত্রী শাহনাজ চৌধুরীর দাবি, স্বাধীন মত প্রকাশের কারণেই তার স্বামীকে কারাগারে থাকতে হচ্ছে।
এনএনবাংলা/পিএইচ
