হরমুজ প্রণালিতে চলমান অচলাবস্থা ও সরবরাহ বিঘ্নের পরিস্থিতি যদি আগামী মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত অব্যাহত থাকে, তাহলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১৫০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ বিনিয়োগ ব্যাংক জেপি মরগান।
প্রতিষ্ঠানটির এক বিশেষ নোটে উল্লেখ করা হয়েছে, নিকট ভবিষ্যতেই তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ থেকে ১৩০ ডলারে পৌঁছানো সময়ের ব্যাপার মাত্র।
জেপি মরগানের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, তাদের মূল ধারণা অনুযায়ী হরমুজ প্রণালির বর্তমান সংকট শেষ পর্যন্ত আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হবে। তবে সেই সমাধান কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের সরবরাহ সংকট ও মজুত হ্রাসের কারণে বাজারে দামের চাপ অব্যাহত থাকবে।
বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রতিষ্ঠানটি পূর্বাভাস দিয়েছে, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিক অর্থাৎ জুন মাস পর্যন্ত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে থাকতে পারে। বছরের শেষার্ধে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে এবং প্রণালীটি আংশিকভাবে খুলে দেওয়া হলে দাম আবার কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে জেপি মরগান একটি বড় ঝুঁকির কথাও উল্লেখ করেছে। তাদের মতে, তেলের উচ্চমূল্য কতদিন স্থায়ী হয়, তার ওপর বৈশ্বিক অর্থনীতির ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে। যদি দীর্ঘ সময় ধরে তেলের দাম উচ্চমাত্রায় থাকে, তাহলে বিশ্বব্যাপী পণ্য ও সেবার চাহিদা মারাত্মকভাবে কমে যেতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত বৈশ্বিক মন্দার ঝুঁকি তৈরি করবে।
উল্লেখ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে হামলা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেওয়ার পর গত বৃহস্পতিবার থেকেই আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, তেলের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুধু উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্যই নয়, বরং উন্নত বিশ্বের সামষ্টিক অর্থনীতির জন্যও বড় ধরনের ধাক্কা হয়ে উঠতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স।
এনএনবাংলা/পিএইচ


আরও পড়ুন
২০০৯ সালের পর জন্মগ্রহণকারীদের ধূমপান নিষিদ্ধ, আইন করছে যুক্তরাজ্য
তিন বছরে ৪০০ পোশাক কারখানা বন্ধ, আরও বহু ঝুঁকিতে: বিজিএমইএ
মাথাপিছু আয়ে ভারতকে ছাড়িয়ে যেতে পারে বাংলাদেশ: আইএমএফ