জুলাই-আগস্টে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সংঘটিত ৯ জন হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) গঠন নিয়ে প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের শুনানি শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে আদেশ ঘোষণার জন্য আগামী ৭ মে দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
রোববার (২৬ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ দিন নির্ধারণ করেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
এদিন শুনানির শুরুতে প্রসিকিউশনের পক্ষে বক্তব্য উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। তিনি মামলায় আনা তিনটি অভিযোগ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন এবং ২০২৪ সালের ১৮ ও ১৯ জুলাই কখন, কোথায় এবং কীভাবে ঘটনাগুলো ঘটেছে তার বিবরণ দেন। শুনানিতে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের তৎকালীন মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের ফোনালাপের বিষয়ও উপস্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে ভিডিও ফুটেজে অন্য আসামিদের উপস্থিতির বিষয়টি ট্রাইব্যুনালকে অবহিত করেন তিনি।
প্রসিকিউশনের কাছে পর্যাপ্ত প্রমাণ রয়েছে দাবি করে মামলার ২৮ জন আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আবেদন জানান প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। এ সময় তার সঙ্গে প্রসিকিউটর তারেক আবদুল্লাহ, আবদুস সাত্তার পালোয়ান, মঈনুল করিমসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অপরদিকে, গ্রেপ্তার ও পলাতক আসামিদের পক্ষে আইনজীবীরা শুনানিতে অংশ নিয়ে মামলাটি থেকে আসামিদের অব্যাহতি (ডিসচার্জ) চেয়ে আবেদন করেন। এক আসামির আইনজীবী সিফাত মাহমুদ শুভ বলেন, এ ঘটনাটি মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতায় পড়ে না এবং এ ধরনের অপরাধের জন্য আলাদা আইন রয়েছে।
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী ৭ মে দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।
এ মামলায় সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ মোট ২৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে চারজন গ্রেপ্তার রয়েছেন। তারা হলেন—নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মোহাম্মদপুর থানা শাখার সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল, সহ-সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, ওমর ফারুক ও ফজলে রাব্বি। রোববার সকালে কারাগার থেকে তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
অন্যদিকে, পলাতক আসামিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন—ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের তৎকালীন মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, ডিএমপির তৎকালীন কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক অ্যাডিশনাল ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার এবং ডিএনসিসির ৩২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সৈয়দ হাসান নূর ইসলাম রাষ্ট্রন। তাদের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ ও ১৯ জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নৃশংসতা চালায়। আসামিদের উসকানি, প্ররোচনা এবং প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ উপস্থিতিতে নিরীহ ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালানো হয়। এতে মাহমুদুর রহমান সৈকত, ফারহান ফাইয়াজসহ মোট ৯ জন নিহত হন এবং আহত হন আরও অনেকে।
এনএনবাংলা/পিএইচ


আরও পড়ুন
২০০৯ সালের পর জন্মগ্রহণকারীদের ধূমপান নিষিদ্ধ, আইন করছে যুক্তরাজ্য
তিন বছরে ৪০০ পোশাক কারখানা বন্ধ, আরও বহু ঝুঁকিতে: বিজিএমইএ
মাথাপিছু আয়ে ভারতকে ছাড়িয়ে যেতে পারে বাংলাদেশ: আইএমএফ