



বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমদ আকবর সোবহানের স্ত্রী আফরোজা বেগম এবং ছেলে সাফওয়ান সোবহানকে তিন মাসের জন্য বিদেশযাত্রার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. শাহজাহান কবির তাদের আবেদন মঞ্জুর করেন।
সোমবার (৬ জুলাই) দুদকের সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে রোববার তাদের পক্ষে বিদেশযাত্রার অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করেন আইনজীবী এনামুল হক সর্দার। পরে শুনানিতে তাদের পক্ষে আইনজীবী মামুন চৌধুরী যুক্তি উপস্থাপন করেন।
অন্যদিকে দুদকের পক্ষে আইনজীবী মীর আহমেদ আলী সালাম, দেলোয়ার জাহান রুমি এবং তরিকুল ইসলাম আবেদনটির বিরোধিতা করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক নথিপত্র পর্যালোচনার জন্য আদেশ অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখেন। পরবর্তীতে আবেদনটি মঞ্জুর করে আদেশ দেন।
দুদকের আইনজীবী দেলোয়ার জাহান রুমি বলেন, বিদেশযাত্রার অনুমতির আবেদনের বিরুদ্ধে তারা শুনানিতে জোরালোভাবে আপত্তি জানিয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় সব তথ্য-উপাত্ত আদালতের সামনে উপস্থাপন করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১৩ অক্টোবর বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমদ আকবর সোবহানসহ পরিবারের পাঁচ সদস্যের বিদেশযাত্রার অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়েছিল। সে সময় তৎকালীন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজ শুনানি শেষে আবেদনটি নামঞ্জুর করেন।
পরবর্তীতে একই আদালতে গত ১৯ মে সাফওয়ান সোবহান, আফরোজা বেগম ও সাবরিনা সোবহানের বিদেশযাত্রার আবেদন নিয়ে শুনানি হয়। তবে দুদকের প্রতিবেদনে সাফওয়ান ও আফরোজা বেগমের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের সুস্পষ্ট তথ্য রয়েছে উল্লেখ করে আদালত তাদের আবেদন খারিজ করেন। একই দিনে সাবরিনা সোবহান এক মাসের জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি পান।
ওই আদেশের বিরুদ্ধে আফরোজা বেগম ও সাফওয়ান সোবহান হাইকোর্টে আবেদন করেন। পরে ২২ জুন হাইকোর্ট তাদের আবেদন নট প্রেস হিসেবে খারিজ করে দেন।
এর আগে, ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর দুদকের উপপরিচালক নাজমুল হুসাইন বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমদ আকবর সোবহানসহ তার পরিবারের আট সদস্যের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আদালতে আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করে তাদের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন।
দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আবেদনে বলা হয়, বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে মুদ্রা পাচার, সরকারের রাজস্ব ফাঁকি, ভূমি জবরদখল, ঋণ জালিয়াতি, অর্থ আত্মসাৎ, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং অর্থ স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে অর্থপাচার প্রতিরোধ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদক। এসব অভিযোগের তদন্তে একটি অনুসন্ধান টিম গঠন করা হয়েছে। আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, তারা দেশত্যাগের পরিকল্পনা করতে পারেন—এমন আশঙ্কায় তাদের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন।
এনএনবাংলা/
Tags: আহমদ আকবর সোবহানবসুন্ধরা গ্রুপবিদেশযাত্রা
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন